চলচ্চিত্রে শ্রমিকদের জয়গান

By: 2018-05-01 18:30:19 স্পেশাল

বিনোদন প্রতিবেদক : সারা বিশ্বে পালিত হয় শ্রমিক দিবস। ১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগোতে মে মাসের প্রথম দিনটিতে যে ইতিহাসের সূচনা হয়েছিলো সেই ইতিহাস আজ পৃথিবীজুড়ে শ্রমিকের কাছে অনুপ্রেরণার। অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সাহসের মানচিত্র।


আর যুগে যুগে এইসব সাহসী গল্প উঠে এসেছে চলচ্চিত্রের রঙিন পর্দায়। কখনো আবার সাহসী কাল্পনিক গল্পের চলচ্চিত্রগুলোই উঠে এসেছে শ্রমিকদের অনুপ্রেরণা ও সচেতনতায়। দেশে দেশে নির্মিত হয়েছে বহু চলচ্চিত্র। 


আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছেন ‌‌‌‌হা‌উ গ্রিন ওয়াজ মাই ভ্যালি, ‌নেটিভ ল্যান্ড, অন দ্য ওয়াটারফ্রন্ট, দ্য অর্গানাইজার, নরমা রে, মেইটওয়ান, নয়া দৌড়, মজদুর'সহ বেশ কিছু চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়। বিদেশের মত বাংলাদেশেও শ্রমিকদের নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে চলচ্চিত্র। যেখানে শ্রমিকের কথা বলা হয়েছে, শ্রমিকের অধিকার আদায়ের কথা বলা হয়েছে। তেমনি কিছু চলচ্চিত্র নিয়ে বিশ্ব শ্রমিক দিবসের এই বিশেষ আয়োজন-
 

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে সরাসরি শ্রমিক দিবস বা শ্রমিকদের উপলক্ষ করে কোনো চলচ্চিত্র দেখা যায় না। তবে শ্রমজীবী মানুষ ও শ্রমিকদের জীবনের নানা গল্পের চিত্রায়রণ দেখা গেছে। অসংখ্য ছবিতে খেটে খাওয়া মানুষের হাহাকার, অধিকার আদায়ের গল্প ফুটে উঠেছে। সেইসব ছবি ভিড়ে কিছু চলচ্চিত্র কালজয়ী হয়ে আছে।

ভাত দে
আমজাদ হোসেন অভিনীত এই ছবিতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছিলেন আলমগীর-শাবানা। এখানে দেখা গেছে অকালে বাবা হারোনো জরি চরিত্রে শাবানার বেঁচে থাকার সংগ্রাম। বাউল স্বামীর সংসারে অভাবের তাড়নায় অন্যের বাড়িতে শ্রম বেচে জীবন ধারণ করেন তিনি। তাকে কাজ করতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয় তাদেরকে। এটি মুক্তি পেয়েছিলো ১৯৮৪ সালে।


পদ্মা নদীর মাঝি
বিখ্যাত বাঙালি কথা সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত জনপ্রিয় উপন্যাস থেকে ছবিটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটি পরিচালনা করেন গৌতম ঘোষ। বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনায় এতে অভিনয় করেন আসাদ, চম্পা, রূপা ব্যানার্জী, উৎপল দত্ত প্রমূখ। ছবিটিকে প্রান্তিক মানুষের জীবনযাপন নিয়ে অনবদ্য এক নির্মাণ বলে মনে করা হয়। এখানে শ্রমিক হিসেবে অন্যের নৌকায় মাছ ধরে বেড়ানো কুবেরসহ সকল মাঝিদের বঞ্চিত হওয়ার গল্প ফুটে উঠেছে। এখানে আছে জোতদার নিষ্ঠুর মালিক চরিত্ররা। ছবিটি দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যায় খুব সহজেই।


সারেং বউ
সারেং বৌ ১৯৭৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশি চলচ্চিত্র। ছবিটি পরিচালনা করছেন বাংলাদেশের বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার আবদুল্লাহ আল মামুন। এই ছবিতে আবদুল জব্বারের কণ্ঠে গাওয়া ‘ওরে নীল দরিয়া আমায় দেরে দে ছাড়িয়া’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের গল্পে নির্মিত এই ছবিটিতে অভিনয় করেছেন ফারুক, কবরী, আরিফুল হক, জহিরুল হক, বিলকিস, বুলবুল ইসলাম, ডলি চৌধুরী সহ আরো অনেকে।

এখানে ফুটে উঠেছে খেটে খাওয়া মানুষরা দিনের পর দিন কেমন করে শোষিত হয়েছে গ্রামের প্রভাবশালী মোড়লদের দ্বারা।

এছাড়াও ‘কাজের বেটি রহিমা’, ‘লাট সাহেবের মেয়ে’, ‘শ্রমিক নেতা’, ‘বিদ্রোহী গার্মেন্টস কন্যা’সহ আরও অনেক ছবিতেই নানাভাবে বলা হয়েছে মেহনতি মানুষের গল্প।