নাচের শিল্পীরা অভিনয়ে পারদর্শী হয় : শিরিন শিলা

By: রিফাত হোসেন 2018-03-31 16:15:15 স্পেশাল

রিফাত হোসেন : চিত্রনায়িকা শিরিন শিলা। ‘হিট ম্যান’, ‘ক্ষণিকের ভালোবাসা’, ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’, ‘মিয়া বিবি রাজি’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি ‘সাহসী যোদ্ধা’ সিনেমার শুটিং শুরু করেছেন। এছাড়া বেশ কিছু চলচ্চিত্রের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলচ্চিত্রের তার ব্যস্ততাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা প্রতিদিনের সঙ্গে কথা বলেন শিরিন শিলা। আলাপচারিতার বিশেষ অংশ বাংলা প্রতিদিনের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

 

বাংলা প্রতিদিন : নাটকে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের মাধ্যমে মিডিয়াতে আপনার অভিষেক, প্রথম অভিনয়ের অভিজ্ঞতা, উল্লেখযোগ্য ঘটনা সম্পর্কে বলুন?

শিরিন শিলা :  আমার প্রথম নাটক ‘গুলশান এভেনিউ’ তে অডিশনে গিয়েছি। সেখানে অনেক মেয়েই ছিল। তখন আমি অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি। তবে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোতে কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাজ করেনি। প্রথম স্ক্রিনটেস্টেই তারা আমাকে পছন্দ করে এবং আমাকে নির্বাচিত করে। আর তাছাড়া আমি তো নাচের শিল্পী, নাচের মেয়েরা অভিনয়ে পারদর্শী হয়। তাই, নার্ভাসনেস কাজ করেনি। আমি অনেক ছোটবেলা থেকেই মঞ্চে নাচ করেছি। তাই ক্যামেরার সামনে অভিনয়ের ক্ষেত্রে কোনো ভয়-ভীতি কাজ করেনি। আমি অনেক নেচারালি অভিনয় করেছিলাম।

 

বাংলা প্রতিদিন : বর্তমানে চলচ্চিত্রে কাজের পরও নাটকে অভিনয়ে আপনি কতটা আগ্রহী?

শিরিন শিলা : বড় পর্দায় অভিনয়ের পর ছোট পর্দায় অভিনয়ের কোনো ইচ্ছে নেই। আমি তো চলচ্চিত্রে টিকে আছি, এমনতা না যে চলচ্চিত্র  আমাকে গ্রহণ করেনি। আমি গর্ববোধ করি কেননা চলচ্চিত্র আমাকে গ্রহণ করেছে, চলচ্চিত্রের দর্শক আমাকে গ্রহণ করেছে, চলচ্চিত্রে আমার একটা অবস্থান তৈরি হয়েছে। যারা চলচ্চিত্রে এসে জায়গা পায় না তারাই ছোট পর্দায় ফিরে যায়। তাহলে কেন ছোট পর্দায় আমি কাজ করবো। যেখানে ইতিমধ্যে চলচ্চিত্রে আমার একটা অবস্থান তৈরি হয়েছে।

বাংলা প্রতিদিন : ‘হিটম্যান’ চলচ্চিত্রে ‘দেখনা ও রসিয়া’ আইটেম গান দিয়ে চলচ্চিত্রে আপনার যাত্রা শুরু। গানটিতে পারফর্মের অনুভূতি কেমন ছিল?

শিরিন শিলা : বড় পর্দায় কাজ করার অনুভূতি যদিও অন্যরকম তবুও মঞ্চ থেকে চলচ্চিত্রে পারফর্ম করা আমার কাছে অনেকটা স্বাভাবিকই ছিল। ছোটবেলা থেকেই নাচের অভিজ্ঞতা ও পারদর্শিতার কারণে ব্যাপারটি আমার জন্য ছিল অনেক সহজ। প্রথমবারের মতো শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের সঙ্গে বড় বাজেটের একটি চলচ্চিত্রে কাজ করা। সব মিলিয়ে ভালোই ছিল কাজটি।

 

বাংলা প্রতিদিন : চলচ্চিত্রে পথ চলা বা অবস্থান তৈরির পেছনে কার অবদান মুখ্য?

শিরিন শিলা : আমি তেমন রকমের সাপোর্ট পাইনি কারো কাছ থেকে। আমি সাধারণত নিজের দক্ষতা দিয়ে, মানুষের সঙ্গে কাজের মাধ্যমে, নাচ-অভিনয়ের অভিজ্ঞতায় আমার এই অবস্থানে আসা। তবে দর্শক গ্রহণযোগ্যতা, তাদের ভালোবাসাকেই আমি মুখ্য হিসেবে দেখি। ব্যাপারটি কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক না।

 

বাংলা প্রতিদিন : ইন্ডাস্ট্রিতে আপনি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাকে দেখেন?

শিরিন শিলা : অনুপ্রেরণা হিসেবে আমি সবসময় শাবনূর আপুকেই দেখি। তার অভিনয়ের দক্ষতা, মানুষের সঙ্গে কমিটমেন্ট, মানুষকে ভালোবাসা, তার ব্যবহার সবই আমাকে অনুপ্রাণিত করে।

বাংলা প্রতিদিন : প্রিয় অভিনেতা, সহ-অভিনেতা ও সহ-অভিনেত্রী কে?

শিরিন শিলা : প্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ, সহ-অভিনেতা হিসেবে দেখি ইমনকে আর সহ-অভিনেত্রী পরিমনিকে।

 

বাংলা প্রতিদিন : ছটকু আহমেদের ‘এক কোটি টাকা’ চলচ্চিত্রের শুটিং শুরু হওয়ার পরও পূর্ব নায়িকা অমৃতাকে বাদ দেওয়া হয় এবং পরবর্তিতে আপনি চলচ্চিত্রটিতে কাজ করছেন। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি?

শিরিন শিলা : আমি সবসময় নিজেরটা চিন্তা করি। কে আসলো কে গেল এটা আমার মাথাব্যথার বিষয় না। কেননা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করলে পরিচালক-প্রযোজক সবার মন জুগিয়ে চলতে হয়। একটি বড় প্রোডাকশন হাউজের বিগ বাজেটের একটি চলচ্চিত্র এটি, তাছাড়া চলচ্চিত্রটির কাস্টিং আমার ভালো লেগেছে। মূলত এই কারণে আমি চলচ্চিত্রটিতে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করি। আর আগের নায়িকাকে বাদ দেওয়ার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছিল। চলচ্চিত্রটির ব্যাপারে আমার দিক থেকে আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে, আমি ভালো কিছু করতে পারব এজন্যই আমার কাজটি করা।

 

বাংলা প্রতিদিন : আপনার কিছু চলচ্চিত্রের শুটিং শুরু হওয়ার পরও শুটিংগুলো মাঝপথেই থেমে রয়েছে, চলচ্চিত্রগুলোও সম্পূর্ণ হচ্ছে না। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি?

শিরিন শিলা : শুটিং কেন শুরু হচ্ছে না এটা আমি কিভাবে বলবো। এটা নির্মাতাদের বিষয়।

বাংলা প্রতিদিন : বাংলা প্রতিদিনের দর্শকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলেন?

শিরিন শিলা : দর্শকদের কাছ থেকে আমি আবারও দোয়া চাই। চলচ্চিত্রে তারা যে আমাকে গ্রহণ করেছে বা দর্শকরা জানেন আমি কি, কতটুকু দিতে পারব তাদেরকে, এমন একটা আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। এই আত্মবিশ্বাসটা যেন আমি ধরে রাখতে পারি, দর্শকদের ভালো কিছু উপহার দিতে পারি- সেজন্য তারা যেন আমাকে ভালোবাসে ও সাপোর্ট করে যায়। আর তারা যেন বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়।