তিনি লিখেছিলেন খুব ভালোবাসি : জয়া

By: 2018-01-23 16:51:08 সোশাল মিডিয়া

বিনোদন প্রতিবেদক : “বেশ আগের কথা। লন্ডনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলাম আমরা। লম্বা সফর। ফ্লাইটে হঠাৎ খেয়াল করলাম তিনি একটি উপন্যাস পড়ছেন। নাম ‘হিরে বসানো সোনার ফুল’; সমরেশ মজুমদারের লেখা। বইটি পড়া শেষ করে তিনি আমাকে সেটি উপহারও দিয়েছিলেন। সঙ্গে দুই লাইনের শুভেচ্ছা স্বাক্ষর। স্পষ্ট মনে আছে, তিনি লিখেছিলেন- ‘খুব ভালোবাসি’।”

নায়করাজ রাজ্জাকের জন্মদিনে দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টের শুরুতে এমনটা লিখেছেন অভিনেত্রী জয়া আহসান।

এরপর তিনি বলেন, ‘আজ বলতে দ্বিধা নেই, আমি যতদিন বেঁচে থাকব, ওই দুই শব্দের শুভেচ্ছা স্বাক্ষর আমার জীবনের অন্যতম বড় উপহার হয়ে থাকবে। কারণ উপহারটি আমাকে সাধারণ কেউ দেননি। দিয়েছিলেন নায়করাজ রাজ্জাক। আমাদের চলচ্চিত্রের গর্ব।’

এ নায়িকা আক্ষেপ করলেন রাজ্জাকের যুগে জন্মাননি বলে। নইলে তার বিপরীতে অভিনয়ের সুযোগ মিলে যেতো।

এ নায়িকা বলেন, ‘আরেকটু আগে জন্ম হলে আমিও তো বেহুলা, আবির্ভাব, এতটুকু আশা, নীল আকাশের নীচে, পীচ ঢালা পথ, দর্পচূর্ণ, টাকা আনা পাই, দীপ নেভে নাই, আলোর মিছিল, অনন্ত প্রেম, অবুঝ মন, জীবন থেকে নেয়া, অশিক্ষিত, ছুটির ঘন্টা, রংবাজ— এরকম আরো অনেক কালজয়ী ছবির নায়িকা হতে পারতাম।’

আরো জানান, রাজ্জাক কালজয়ী সিনেমা ‘রংবাজ’-এর রিমেক করতে চেয়েছিলেন। নায়িকা হওয়ার প্রস্তাব দিয়ে জয়াকে ফোনও করেছিলেন। কিন্তু তার আগেই চলে গেলেন নায়করাজ। তবে ২০১২ সালে সহশিল্পী হিসেবে তারা দুজন কাজ করেন ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’ ছবিতে।

সেই স্মৃতিরোমন্থন করে জয়া বলেন, ‘এখনো স্পষ্ট মনে আছে, তিনি যখন সেটে দাঁড়াতেন, তখন সবার সঙ্গে ওনার পার্থক্য খুব সহজেই ধরা পড়ত। তার বাচনভঙ্গি থেকে শুরু করে সবকিছুতে শিক্ষার ছাপ ছিল। রুচির ছাপ ছিল। শুটিংয়ের ফাঁকে আমার সঙ্গে অনেক ব্যক্তিগত গল্প করতেন তিনি। এ কারণেই একসঙ্গে ক্যামেরার সামনে কাজ করার চেয়ে তার সঙ্গে ক্যামরার পেছনের মুহূর্তগুলো আমি খুব উপভোগ করতাম। অপেক্ষা করতাম তার কথা কখন শুনতে পারব।’

সবশেষে বলেন, ‘আজ নায়করাজ রাজ্জাকের জন্মদিন। এই বিশেষ দিনে কেন জানি প্রিয় অভিনেতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত প্রতিটি স্মৃতি একটার পর একটা মনে পড়ছে। এটা ঠিক, আজ তিনি নেই। কিন্তু আধুনিক অভিনয়ের শিক্ষা আমরা যার কাছ থেকে পেয়েছি, তাকে কি আমরা খুব সহজে ভুলে যেতে পারব? কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, রঙ যেন মোর মর্মে লাগে, আমার সকল কর্মে লাগে। আমি নিশ্চিত, বাংলা চলচ্চিত্র যতদিন থাকবে, দুই বাংলাতেই নায়করাজ রাজ্জাকের নাম এবং তার কর্ম রঙিন হয়ে বেঁচে থাকবে। শুভ জন্মদিন, নায়করাজ!’