নাক ডাকা বন্ধ করতে চান?

By: স্বাস্থ্য ডেস্ক 2018-01-04 12:54:16 স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্য ডেস্ক : ঘুমের ঘোরে নাক ডাকার সমস্যাকে আমরা অনেকেই হালকা চালে নিয়ে থাকি। কিন্তু বাস্তবে যা মোটেও হালকা ঘটনা নয়। কারণ নাক ডাকার অর্থ হল ঘুমনোর সময় নাসারন্ধ্র দিয়ে বায়ু চলাচল ঠিকমতো না হওয়া। আর এমনটা হওয়া মানে শরীরের ওপর মারাত্মক প্রভাব পরা। তাই নাক ডাকার সমস্যা কমাতে সময় থাকতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র অনুযায়ী নাক ডাকার প্রবণতা থাকলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। ফলে আইকিউ তো কমেই, সেই সঙ্গে স্মৃতিশক্তিও ঝাপসা হতে শুরু করে। এখানেই শেষ নয়, আরো বেশ কিছু গবেষণা অনুসারে নাকা ডাকার কারণে স্ট্রোক, হার্ট ডিজিজ, অ্যারিথমিয়া, জিইআরডি, ক্রনিক মাথা যন্ত্রণা এবং ওজন বৃদ্ধির মতো সমস্যাও মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে। তাই সাবধান! তবে অকারণ চিন্তার কোনো কারণ নেই। নাক ডাকা বন্ধে এ প্রতিবেদনে উল্লেখিত ঘরোয়া পদ্ধতিগুলোকে কাজে লাগাতে পারেন।

* ক্যামোমাইল চা
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত এই বিশেষ ধরনের পানীয়টি গ্রহণ করলে শরীরের ভেতরে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যা নাক ডাকার প্রবণতা কমায়। সেই সঙ্গে নার্ভ এবং পেশীর কর্মক্ষমতা বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে এক কাপ গরম পানিতে, ক্যামোমাইল ফুলের নির্জাস দিয়ে তৈরি টি ব্যাগ কম করে ১৫ মিনিট চুবিয়ে রাখতে হবে। সময় হয়ে যাওয়ার পর চা পান করে ঘুমাতে যেতে হবে। এমনটা প্রতিদিন করতে পারলেই দেখবেন নাক ডাকা বন্ধ হয়ে যাবে।

* এলাচ
অনেক সময় নাকের ভেতরে কোনো বাঁধা থাকার কারণেও নাক ডাকার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে নিয়মিত ঘুমনোর আগে এলাচ চা খেলে কিন্তু দারুন উপকার মেলে। কারণ এই প্রাকৃতিক উপাদানটির মধ্যে  থাকা একাধিক উপাকারি উপাদান নাকের ভেতরের বাঁধা সরিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক করতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। আর একবার শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক মতো হতে থাকলে নাক ডাকার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

 * পিপারমেন্ট তেল
এই প্রাকৃতিক উপাদানটির মধ্যে রয়েছে ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা মেমব্রেনের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ঘুমানোর সময় শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিকমতো হওয়ার কারণে নাক ডাকার প্রবণতা কমতে শুরু করে। এক্ষেত্রে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস পানিতে ২ ফোঁটা পিপারমেন্ট তেল দিয়ে সেই পানি দিয়ে গার্গেল করতে হবে। তাহলেই দেখবেন উপকার মিলবে।

* স্টিম
অনেক সময় সর্দি-কাশির কারণেও নাক দিয়ে বায়ু চলাচল ঠিকমতো হতে পারে না। ফলে ঘুমানোর সময় নাক দিয়ে আওয়াজ বেরতে শুরু করে। এক্ষেত্রে কিছু সময় অন্তর অন্তর গরম ভাপ নিলে দারুন উপকার পাওয়া যায়। তাই এবার থেকে সর্দি-কাশি হলেই এই ঘরোয়া পদ্ধতিটির সাহায্য নেবেন। দেখবেন ঘুমনোর সময় কোনো সমস্যাই হবে না।

* হলুদ:
অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টিবায়োটিক উপাদানে পরিপূর্ণ এই প্রাকৃতিক উপাদানটি গ্রহণ করলে শরীরের ভেতরে ইনফ্লেমেশন বা প্রদাহ কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে কমে নাক ডাকার প্রবণতাও। এক্ষেত্রে প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার ৩০ মিনিট আগে এক গ্লাস গরম দুধে ২ চামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে পান করার অভ্যাস করতে হবে। এমনটা করলেই দেখবেন রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটবে না।

* অলিভ অয়েল
রাত্রে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দুই চামচ অলিভ অয়েল খেলে শরীরে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে রেসপিরেটরি প্যাসেজ খুলতে শুরু করে। আর একবার এমনটা হয়ে গেলে বাতাস চলাচলে কোনো বাঁধার সৃষ্টি হয় না, ফলে নাক ডাকার আশঙ্কা কমে যায়।

* রসুন
নাকের ভেতরে মিউকাস জমতে বাঁধা দেয় এই প্রাকৃতিক উপাদানটি। সেই সঙ্গে রেসপিরেটারি সিস্টেমের উন্নতি ঘটায়। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হতে শুরু করে, কমতে শুরু করে নাক ডাকার সমস্যা। এক্ষেত্রে নিয়মিত রসুনের ১-২ কোয়া চিবিয়ে, এক গ্লাস পানি খেয়ে ঘুমাতে যেতে হবে। তাহলেই দেখবেন নাসিকা গর্জন আর আপনাকে বা আপনার প্রিয়জনকে বিপদে ফেলতে পারবে না।

* ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার
কোনো কারণে নাকের ভেতরে মিউকাস জমতে শুরু করলে বায়ু চলাচল ঠিকমতো হতে পারে না। ফলে নাক দিয়ে বিকট আওয়াজ বেরতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খেতে হবে, যেমন ধরুন- লেবু, কমলা, মুসুম্বি লেবু প্রভৃতি। আসলে শরীরে এই বিশেষ ধরনের ভিটামিনটির মাত্রা বাড়তে থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রোগ ভোগের আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি নাকে সর্দি বা মিউকাস জমে নাক ডাকার প্রবণতাকেও কমায়।

* মধু
রাতে ঘুমানোর আগে নিয়ম করে যদি এক গ্লাস গরম পানিতে ১ চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন, তাহলে নাকা ডাকার সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগই পায় না। কারণ মধুর মধ্যে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটারি উপাদান গলার প্রদাহ কমায়। সেই সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক করে তোলে। ফলে নাক ডাকার সম্ভাবনা কমে।