নিয়মিত তুলসী পাতা খেলে যা হয়

By: স্বাস্থ্য ডেস্ক 2017-12-28 13:17:27 স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্য ডেস্ক : ‘কুইন অব হার্বস’ নামে পরিচিত তুলসী গাছের গুণাগুণ লিখে শেষ করা সম্ভব নয়। তবু কয়েকটির কথা না বললেই নয়। গত ৫০০০ বছর ধরে নানা রোগ সারাতে এই গাছটিকে কাজে লাগানো হয়ে আসছে, তা ত্বকের রোগ হোক কী অন্য কোনো শারীরিক অসুবিধা। আসলে তুলসী গাছের রসের মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা ছোট-বড় নানা রোগ সারাতে দারুন কাজে আসে।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুসারে, তুলসী গাছের পাতা খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে, সেই সঙ্গে নানা ধরনের সংক্রমণ হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নানা রোগ এমনিতেই দুরে পালায়। সেই কারণেই তো নিয়মিত তুলসী পাতা খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। প্রতিদিন তুলসী পাতা খাওয়া শুরু করলে যে যে উপকারগুলো পাওয়া যায়, সেগুলো হল-

* ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায় : একাধিক কেস স্টাডিতে দেখা গেছে, নিয়মিত তুলসী পাতা খাওয়ার অভ্যাস করলে অথবা তুলসী পাতার পেস্ট মুখে লাগালে রক্ত এত মাত্রায় পরিশুদ্ধ হয় যে স্কিন ইনফেকশনের আশঙ্কা কমে যায়। সেই সঙ্গে নানাবিধ ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও হ্রাস পায়। তুলসী পাতায় উপস্থিত অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজ এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

* ক্যানসার রোগকে দূরে রাখে : প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-কার্সিনোজেনিক প্রপাটিজ এবং অ্যান্টি-অ্যাক্সিডেন্ট থাকায় তুলসী পাতা খেলে ক্যানসার রোগও দূরে পালায়। একাধিক গবেষণা অনুসারে, প্রতিদিন যদি তুলসী পাতা চিবিয়ে খাওয়া যায়, তাহলে ব্রেস্ট এবং ওরাল ক্যানসার কমতে শুরু করে। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস করে তুলসী পাতার রস খেলে পরিবেশে উপস্থিত নানা ক্ষতিকর উপাদান আমাদের শরীরকে ক্ষতি করতে পারে না। ফলে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।

* মুখের দুর্গন্ধ দূর করে : সকাল সকাল কয়েকটি তুলসী পাতা চিবিয়ে খেলে মুখের ভেতর জন্ম নেওয়া নানান ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। ফলে মুখ থেকে আর বাজে গন্ধ বের হয় না। দাঁতকে নানা জীবাণুর হাত থেকে বাঁচাতেও তুলসী পাতা দারুন কাজে দেয়।

* কিডনি স্টোন : তুলসী পতায় রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে সেখানে স্টোন হওয়ার আশঙ্কা কমায়। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন যদি মধু দিয়ে তৈরি তুলসী পাতার রস খাওয়া যায়, তাহলে কিডনি স্টোন গলে তো যায়ই, সেই সঙ্গে শরীর থেকে তা বেরিয়েও যায়। তুলসী পাতায় যে ডিটক্সিফাইং এজেন্ট রয়েছে তা শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে দেয় না। ফলে কিডিনতে স্টোন হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।

* স্টমাক সম্পর্কিত রোগ কমায় : গত কয়েক বছরে আমাদের দেশ সহ সারা বিশ্বে গ্যাসটিক প্রবলেম, আলসার, ব্লটিং প্রভৃতি রোগের প্রকোপ বেড়েছে। আর তুলসী পাতা এইসব রোগ সারাতে দারুন কাজে আসে। প্রতিদিন এক চামচ তুলসির জুসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে নানা রকমের পেটের রোগ একেবারে দূরে পালায়।

* হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায় : ইউজেনল নামে বিশেষ এক ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে তুলসী পাতায়, যা রক্তচাপ এবং কোলেস্টরলের মাত্রাকে স্বাভাবিক রাখে। আর একথা তো সকলেরই জানা যে এই দুটি জিনিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে হার্টের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। আপনি কি কোনো রকমের হার্টের রোগে ভুগছেন? তাহলে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কয়েকটি তুলসি পাতা চিবিয়ে খান। দেখবেন অল্প দিনেই সুস্থ হয়ে উঠবেন।

* ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে : প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কয়েকটি তুলসি পাতা যদি চেবানো যায়, তাহলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করে। তবে এক সঙ্গে অনেক চুলসি পাতা খেয়ে নিলে কিন্তু হঠাৎ করে শর্করারা মাত্রা কমে গিয়ে অন্য বিপদ হতে পারে। তাই অল্প করে তুলসি পাতা খাওয়া উচিত।

* জ্বর ও ঠান্ডা লাগা কমায় : সেই ছোটবেলা থেকে শুনে আসা কথাটা বাস্তবিকই ঠিক যে, জ্বর এবং ঠান্ডা লাগা কমাতে তুলসীর কোনো বিকল্প নেই। আসলে তুলসী পাতা আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরো জোরাল করে দেয়। ফলে রোগ-ভোগ কমতে শুরু করে। শুধু তাই নয় এতে উপস্থিত অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপাটি নানা ধরনের সংক্রমণ থেকেও আমাদের দূরে রাখে।

* ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়ায় : বেশ কিছু গবেষণা অনুসারে তুলসী পাতায় উপস্থিত ক্যাম্পেইনে, ইগোয়েনাল এবং সিনেওল নামক উপাদান, ফুসফুস সংক্রান্ত রোগের প্রকোপ কমানোর পাশাপাশি লাং-এর কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ব্রঙ্কাইটিসের মতো রোগের চিকিৎসাতেও তুলসী পাতা দারুনভাবে সাহায্য করে থাকে।

* দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায় : নানা ধরনের ছোট-বড় চোখের রোগ সারাতে তুলসি পাতার কোনো বিকল্প নেই। ভিটামিন- এ-র ঘাটতির কারণে যে যে চোখের রোগ হয়, সেগুলোর প্রকোপ কমাতে দারুন কাজে আসে তুলসী পাতা।

* মাথাব্যথা কমায় : একটা বড় পাত্রে পানি নিয়ে তাতে কয়েকটা তুলসী পাতা ফেলে দিন। তরপর সেই পানি ফুটিয়ে নিন। এবার মাথা টাওয়ালে ঢেকে সেই পানির ভাব নিলে দেখবেন মাথাব্যথাকমে যাবে। তুলসি পাতায় এমন কিছু উপাদান রয়েছে য নিমেষে মাথাব্যথা কমিয়ে ফেলতে কার্যকরি ভূমিকা নেয়।

* স্ট্রেস কমায় : শরীরে অ্যান্টি-স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে তুলসী পাতা দারুন কাজে দেয়। ফলে স্ট্রেস লেভেল কমতে শুরু করে। তুলসী পাতায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি স্ট্রেস এজেন্ট রয়েছে, যা রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরে উপস্থিত নানা ক্ষতিকর উপাদানের শক্তি কমতে থাকে, সেই সঙ্গে কমতে শুরু করে স্ট্রেসও।