এরপর কারা ?

By: অরণ্য শোয়েব 2019-02-05 22:33:37 বিনোদন

টিভি খোললেই দেখা মিলে প্রচুর অভিনেতাদের নাটক , বলতে গেলে অভিনেতা তো কত জনই আছেন তবে  ভালো অভিনয় করেন টেলিভিশনে এমন শিল্পীর সংখ্যা কম নয়। কিন্তু যাদের নামে টেলিভিশন চ্যানেল নাটক কেনে এমন অভিনেতা আছেন কয়জন? 

শুরু থেকেই জাহিদ হাসান একটু কমেডির দিকই বেশি ঝুঁকেছেন। আফজাল হোসেন, মাহফুজ, তৌকির আহমেদরা করতেন রোমান্টিকটা বেশি। আজিজুল হাকিম, শহীদুজ্জামান সেলিমদের নামেও নাটক চলে। 
এদের পরবর্তী সময়ে ঠিক একযুগ আগে উথান ঘটে অপূর্ব, নিশো ও সজলদের। এরই মধ্যে লম্বা সময় রাজত্ব ধরে রাখে মোশাররফ করিম। মোশাররফের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করতেন চঞ্চল। আলোচনায় ছিলেন আনিসুর রহমান মিলনরাও। উপরের নামগুলো মিলে নাটকের যে সময় কেটেছে। সেটা বেশ ভালোই ছিল। কেটেছে বললে কিছুটা ভুল হবে। 

মোশাররফ করিম, চঞ্চল, নিশো, অপূর্বদের রাজত্ব এখনো চলছে। তাদের সঙ্গে নাঈম, নিলয়, শ্যামলরাও আছেন। কিন্তু এরপরের অবস্থানে কে আছে?

এরপরে আছেন হাতে গোনা কয়েকজন অভিনেতা। এত এত টেলিভিশনের আধিপত্য। ইউটিউবের জন্যও নাটক কম নির্মাণ হচ্ছে না। প্রতিবছর যে পরিমাণ নাটক নির্মাণ হয়, সে তুলনায় কয়জন নতুন অভিনয়শিল্পীর উথান ঘটে?

অপূর্ব- নিশোদের পর টেলিভিশনে ভালো করছেন সিয়াম আহমেদ, তৌসিফ মাহবুব, অ্যালেন শুভ্র, জোভান, ইরফান সাজ্জাদ ও মনোজ কুমাররা। টেলিভিশন নাটকে এদের বয়সও বছর পাঁচ হয়ে গেছে প্রত্যেকের।  এরমধ্যে যদি প্রত্যেককে প্রশ্ন করা হয়। এক্সপেরিমেন্টাল কাজ কয়টি করা হয়েছে। প্রত্যেকে হয়তো হাতেগোনা কিছু নাম বলতে পারবেন।
পরিচালকরা এদের একটা নির্দিষ্ট ছকে বেধে রাখছে সেই প্রথম থেকেই। ভার্সিটি পড়ুয়া রোমান্টিক নাটকেই ঘুরেফিরে দেখা যায় তাদের। 
আর প্রতি ঈদে নিশো- অপূর্ব, মোশাররফ করিম ৩০টির অধিক নাটক করলেও নতুন কাউকে নিয়ে ট্রাই করা হয় না। নামকরা টেলিভিশন নাটকের নির্মাতারাও ছুটে সেই নিশো- অপূর্ব, মোশাররফ করিমদের পেছনেই। পার্থ- তাহসানদের মাঝেমধ্যে দেখা যায়।


আজকাল মঞ্চ থেকে ভালো অভিনেতা উঠে আসছে না। আর উঠে আসলেও তারা লাইমলাইটে আসতে পারছে না। ফেসবুকের মত মাধ্যমে থেকে চেহারা সুন্দর দেখে অভিনয়ে নামিয়ে দেয় একশ্রেনীর পরিচালক। তাদের তো কনটেন্ট তৈরী করতে হবে। সেটার বাজেটও কম। সেখানে সিনিয়র অভিনেতারা চড়া বাজার বসায়। এইসব ফেসবুক থেকে কুড়িয়ে পাওয়াদেরই লিড রোলে দিয়ে অভিনয় করানো হয়। এরমধ্যে বেশিরভাগেরই নেই অভিনয় জ্ঞান।

নতুন তারকার তৈরীর জন্য পরিচালকদেরই এগিয়ে আসতে হবে। সে যে মাধ্যম থেকেই আসুক, তাকে নিয়ে ভিন্ন গল্পের নাটক নির্মাণ করতে হবে। জোভানদের নিয়ে নতুন কিছু ভাবতে হবে।