শ্রদ্ধা ভালোবাসায় সিক্ত আমজাদ হোসেন

By: 2018-12-22 18:26:56 বিনোদন

‘কত কানলাম কত সাধলাম আইলা না/পথের ধুলায় পইড়া রইলাম/একবার ফিরাও চাইলা না’- গানটি লিখেছেন আমজাদ হোসেন। গানের কথার মতই বরেণ্য এই চলচ্চিত্রকারের নিথর দেহ শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শত শত ভক্ত, সহকর্মী তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন। কিন্তু তিনি একবারও ফিরে চাইছেন না। কারণ তিনি চলে গেছেন সব কিছুর উর্ধ্বে।

আমজাদ হোসেন একাধারে চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, কাহিনিকার, গীতিকার, সংলাপ লেখক, চিত্রনাট্যকার এবং একজন সফল অভিনেতা।গত ১৪ ডিসেম্বর তিনি থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

গতকাল সন্ধ্যায় তার মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়। আজ সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার মরদেহ রাখা হয়। গুণী এই নির্মাতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সৈয়দ হাসান ইমাম, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, মামুনুর রশীদ, রামেন্দ্র মজুমদার, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, আবুল কালাম আজাদ, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, ফকির আলমগীর, মুশফিকুর রহমান গুলজার, রোকেয়া প্রাচী, সালাহউদ্দিন লাভলু, অভিনেতা আবদুল আজিজ, চিত্রনায়ক হেলাল খান, ম হামিদ, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা ৭১, টেলিভিশন প্রডিউসার সংঘ, অভিনয়শিল্পী সংঘ, শিল্পকলা একাডেমী, প্রাচ্যনাট, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

এ সময় আমজাদ হোসেনের ছোট ছেলে সোহেল আরমান বলেন, ‘বাবা আপনাদের ভালোবাসায় ফুলে ফুলে ভরে গেছেন। আমরা তার সন্তান হয়ে দেখলাম, এই দেশবাসি দেখছে, বাংলাদেশ দেখছে। আমরা পরিবার থেকে শুধু আপনাদের কাছ থেকে দোয়া চাইবো। এই মুহূর্তে আমার পরিবারের হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে। অনেক কষ্ট হচ্ছে। আমাদের কাছে বাবা আছেন, বাবা থাকবেন, সবসময়ই ছিলেন। আপনারা বাবার জন্য দোয়া করবেন, তিনি যেন জান্নাতবাসি হন। আমাদের পরিবারের জন্য দোয়া করবেন, যাতে আমরা বাবার আদর্শে চলতে পারি। আমজাদ হোসেন বাংলাদেশের মানুষকে খুব ভালোবাসতেন। তিনি সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতেন। কখনো অহংকার করেননি।’

সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, ‘আমজাদ হোসেনের সৃষ্টিকর্ম যত দিন বাংলাদেশ থাকবে তত দিন তিনি থাকবে। বিশেষ করে তার ‘জীবন থেকে নেয়া’ কখনই বাংলাদেশ ভুলতে পারবে না।’

মামুনুর রশীদ বলেন, ‘পঞ্চাশ দশকের শেষের দিকে কর্মজীবন শুরু করেন আমজাদ হোসেন। প্রায় ছয় দশকের এই শিল্পী জীবনের সম্পূর্ণ সময় তিনি সততার সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি বিরল প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। এমন একজন শিল্পী ছিলেন, যে কাজ ধরতেন, পেছনে লেগে থাকতেন। তার মৃত্যুতে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ হবার নয়।’

ফকির আলমগীর বলেন, ‘তার কাজ ও লেখনী জাতীয় সম্পদ, তাকে আমরা হারিয়ে ফেলেছি। বাংলাদেশে তার ক্ষতি অপূরণীয়।’

বেলা ১টার দিকে বিএফডিসিতে তার মরদেহ নেয়া হয়। সেখানে তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে চির বিদায় দেন। সেখানে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো এক নজর দেখেতে বিএফডিসিতে এসেছিলেন সুচন্দা, ববিতা, চম্পা, নায়ক আলমগী, চিত্রনায়ক ফারুক, এটিএম শামসুজ্জামান, অভিনেত্রী আনোয়ারা, সুরকার আলাউদ্দিন আলী, জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, সাঈদুর রহমান সাইদ, মতিন রহমান, সোহানুর রহমান সোহান, অভিনেত্রী তারানা হালিম, শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান, অমিত হাসান, হেলাল খান, চিত্রনায়ক ওমর সানি, ফেরদৌস, রিয়াজ, সাইমন সাদিক, আরিফিন শুভ, শিল্পী তপন চৌধুরী, ফুয়াদ নাসের বাবু, নির্মাতা মুশফিকুর রহমান গুলজার, বদিউল আলম খোকন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহমান, ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি সালাউদ্দিন লাভলু, সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলিক, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার সিইও আলিমুল্লাহ খোকনসহ চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনের অনেকেই।

এরপর চ্যানেল আইয়ের কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে আমজাদ হোসেনের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জামালপুর। কিংবদন্তি এই চলচ্চিত্রকারের শেষ ইচ্ছানুযায়ী জামালপুরেই সমাহিত হবেন তিনি।