হাসির রাজা আনিসকে মনে পরে ?

(অরণ্য শোয়েব) -নাটক সিনেমার শক্তিমান অভিনেতা আনিস | কমেডিয়ান হিসেবে ষাট থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ছিলেন কমেডিয়ান তারকা আনিস।মঞ্চ, টিভি কিংবা চলচ্চিত্র – অভিনয়ের সব ফরম্যাটেই কাজ করেছিলেন। বলা যায় সব মাধ্যমেই সফল অভিনেতা ছিলেন আনিস।

টেলিভিশনের বহু নাটকে ও ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে অভিনয় করে এই আনিস যে একজন কিংবদন্তি তুল্য তারকার মর্যাদা পেয়েছেন – তা বলতেই হবে। তাঁকে বলা হত ‘হাসির রাজা’। যদিও, আজকের দিনের দর্শকদের অনেকেই তাঁকে চেনেন না বললেই চলে।

নবাব সিরাজুদ্দৌল্লা মঞ্চ নাটক করে ব্যাপক আলোচিত হন তিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশনে ফজলে লোহানীর খ্যাতনামা ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘যদি কিছু মনে না করেন’ এ কইঞ্চেন দেহি কৌতুক পর্বে অভিনয় করে তার কৌতুক অভিনেতা হিসাবে দক্ষতার পরিচয় দেন।

কৌতুকে তিনি যে নতুন এক ধারা এনেছিলেন – তা মনে রাখার মতো। তিনি শুধু অভিনেতা নন, তিনি একজন তারকা। এই তারকারা আসল নাম আনিসুর রহমান। তিনি নিজের সম্পর্কে বলতেন, ‘আমি একজন সফল মানুষ। আমি নিজে হাসি অন্যকে হাসাই, দুঃখ বলে কিছু নেই আমার জীবনে।’

তাঁর জন্ম ১৯৪০ সালের ৪ এপ্রিল তৎকালীন বাংলার জলপাইগুড়িতে। জলপাইগুড়ি এখন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অভ্যন্তরে। জলপাইগুড়ি অনেক পুরনো এক জেলা শহর।

আনিস ঢাকার চিত্র জগতে যোগ দেন ১৯৫৭ সালের দিকে। প্রথম দিকে আনিস ছবির জগতে সহকারী চিত্র সম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ঢাকার চলচ্চিত্রের বিখ্যাত দুই ভাই এহতেশাম ও মুস্তাফিজের লিও দোসানী ফিল্মসে কাজ করতেন তিনি।

সেখান থেকেই সুযোগ আসে অভিনয়ের। আনিসের প্রথম অভিনীত ছবি হল ‘বিষকন্যা’। এ ছবিতে কাজ শুরু করেন ১৯৫৯ সালের দিকে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, পরবর্তীতে এ ছবিটি মুক্তি পায় নি। পরবর্তীতে আনিস শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন।

এখানে কয়েকটি ছবির নাম উল্লেখ করা হলো—-

পয়েসে। এটি ছিল উর্দু ছবি। মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘পয়েসে’ মুক্তি পেয়েছিল ১৯৬৪ সালের ২৮ আগষ্ট
এই তো জীবন। এ ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৬৪ সালের ১৩ মার্চ। পরিচালক ছিলেন জিল্লুর রহিম।
মালা। এটি ছিল উর্দু ছবি। মুস্তাফিজ পরিচালিত এ ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৬৫ সালের ২৬ নভেম্বর।

এর বাদেও আনিস অভিনীত মনে রাখার মতো ছবি অসংখ্য। জরিনা সুন্দরী, জংলী মেয়ে, সাইফুল মুলক বদিউজ্জামাল, মধুমালা, ডাকবাবু, শহীদ তিতুমীর-সহ অনেক ছবিতে তিনি স্মরণীয় অভিনয় করেছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেলো আনিসের পরিবারের ব্যাপারে – স্ত্রী কুলসুম আরা বেগম মারা যাওয়ার পর ২০১৪ সালে অভিনয় থেকে বিদায় নেন আনিস। তাঁর দুই মেয়ে। একজন আমেরিকা থাকে, আরেকজন থাকে কুমিল্লা। এখন তাঁর দিন কাটে টিকাটুলির অভয় দাশ লেনে। তিনটা ফ্ল্যাট আছে তাঁর। একটায় থাকেন, বাকি দু’টো ভাড়া দেওয়া। এভাবেই চলে যাচ্ছে দিব্যি।