সেন্সরে প্রদর্শন স্থগিত নোলক

ঢাকাই চলচ্চিত্রের মন্দা হাওয়া কোনোভাবেই পরিবর্তন হচ্ছে না। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে ব্যর্থ হচ্ছেন দেশের খ্যাতিমান নির্মাতারাও। তা ছাড়া নামেমাত্র পরিচালক এসে ‘বস্তাপচা’ সিনেমা নির্মাণ করে এ হাওয়ার গতি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

বর্তমান সময়ে প্রযোজক ‘ম্যানেজ’ করতে পারলেই যেন, সিনেমার নির্মাতা বনে যাওয়া যায়। সম্প্রতি দেখা যায়, প্রযোজক সিনেমা নির্মাণ না করেও নির্মাতা হিসেবে নিজের নাম দিচ্ছেন। তা ছাড়া প্রায়ই শোনা যায়, সিনেমার পরিচালক পরিবর্তন, শিল্পী পরিবর্তন, গল্প চুরিসহ নানা ঘটনা।

গত এক বছর ধরে ‘নোলক’ সিনেমার পরিচালক পরিবর্তন নিয়ে জটিলতা চলছে। কোনোভাবেই এর সমাধান হচ্ছে না। চলচ্চিত্রের সংগঠনগুলো দফায় দফায় মিটিং করেও এর সমাধান দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। কে হচ্ছেন ‘নোলক’ সিনেমার পরিচালক? এর কোনো সমাধান না হওয়ার আগেই প্রযোজক সাকিব সনেটের নামে সিনেমাটি সেন্সর বোর্ডে জমা দেয়া হয়।

পরিচালক রাশেদ রাহা দাবি করেছেন ‘নোলক’ সিনেমার পরিচালক তিনি। ইতোমধ্যে এ দাবি করে বাংলাদেশ সেন্সর বোর্ডে একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন তিনি। স্বাভাবিক কারণেই সেন্সর বোর্ডে সিনেমাটির প্রদর্শনী সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সচিব মোহাম্মদ মুমিনুল হক বলেন, ‘গত সপ্তাহে ‘নোলন’ সিনেমাটি সেন্সরে বোর্ডে জমা দিয়েছে। এর আগে রাশেদ রাহা একটি চিঠি দিয়েছেন। গতকাল পরিচালক সমিতি থেকেও একটি চিঠি দিয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য সিনেমাটির প্রযোজককে বলা হয়েছে। আমরা সমাধানের অপেক্ষায় আছি। আর এতে কোনো সমাধান না হলে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করব। তারপর সিদ্ধান্ত নিবো।’’

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন বলেন, ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি বিষয়টি সমাধানের জন্য এগিয়ে আসে। পরিচালক ও প্রযোজককে ডেকে একটি প্রাথমিক সিদ্ধান্তও হয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কাউকে কিছু না জানিয়ে গোপনে সিনেমাটি জমা দেওয়া মোটেও ঠিক হয়নি। এতে দুই সমিতির নেতাদের অবজ্ঞা করা হয়েছে।’

২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর ভারতের হায়দরাবাদে ‘নোলক’ সিনেমার শুটিং শুরু হয়। এতে অভিনয় করেছেন শাকিব খান, ববি, মৌসুমী, ওমর সানী, তারিক আনাম খান, নিমা রহমান, রেবেকা, ভারতের রজতাভ দত্ত, সুপ্রিয় দত্ত, অমিতাভ ভট্টাচার্য প্রমুখ।

দুই বছর আগে জমকালো আয়োজনে ঢাকার একটি হোটেল সিনেমাটির মহরত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর টানা ২৮ দিন ভারতের হায়দরাবাদে ‘নোলক’ সিনেমার শুটিং করেন পরিচালক রাশেদ রাহা। শুটিং শেষে ইউনিট নিয়ে দেশে ফেরার পর পরিচালকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয় প্রযোজকের। এরই জেরে পরের লট থেকে প্রযোজক সাকিব ইরতেজা পরিচালক রাশেদ রাহাকে ছাড়াই শুটিং শুরু করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পালটাপালটি অভিযোগে অনেক সময় পার হয়ে যায়।

শুরুতে পরিচালক ও প্রযোজক সমিতিতে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন পরিচালক রাশেদ রাহা। অভিযোগের পর চলচ্চিত্রের দুই সমিতি একত্র হয়ে পরিচালক ও প্রযোজককে ডেকে পাঠান। মৌখিকভাবে পরিচালককে দিয়ে সিনেমার কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত হলেও তা মানেননি প্রযোজক। তিনি সাকিব সনেট অ্যান্ড টিমের নামে সিনেমার কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে রাশেদ রাহা তার সিনেমার পরিচালকের মালিকানা ফিরে পেতে আইনের আশ্রয় নেন। ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় জিডি করেন তিনি। পরিচালকের সেই জিডির পর সিনেমার মালিকানার বিষয়টি সুরাহার জন্য ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত পর্যন্ত গড়ায়।