শুভ জন্মদিন প্রবীর মিত্র

(অরণ্য শোয়েব )-প্রবীর মিত্র দেশীয় চলচ্চিত্রের অনবদ্য এক অভিনেতার নাম। প্রবীর মিত্র চাঁদপুর শহরে এক কায়স্থ পরিবারে ১৮ই আগস্ট ১৯৪০ জন্ম গ্রহণ করেন। বংশপরম্পরায় পুরনো ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা প্রবীর মিত্র।তিনি ঢাকা শহরেই বেড়ে উঠেন৷ তিনি প্রথম জীবনে সেন্ট গ্রেগরি থেকে পোগজ স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে জগন্নাথ কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

“লালকুটি” থিয়েটার গ্রুপে অভিনয়ের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন ৷ কর্মজীবনে তিনি সর্বক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করেছেন ৷ স্কুলে পড়া অবস্থায় জীবনে প্রথমবারের মতো নাটকে অভিনয় করেছিলেন তিনি।

এটি ছিল রবীন্দ্রনাথের ‘ডাকঘর’। চরিত্র ছিল প্রহরী। পরিচালক এইচ আকবরের হাত ধরে জলছবি চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম অভিনয় করেন। ছবির গল্প ও সংলাপ লিখেছিলেন তারই স্কুল জীবনের বন্ধু এটিএম শামসুজ্জামান। প্রথমদিকে নায়কের চরিত্রে অভিনয় করতেন। তিতাস একটি নদীর নাম, চাবুকসহ বেশ কিছু ছবিতে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। সর্বশেষ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছবিতে। পরবর্তী সময় নায়ক না হয়ে চরিত্রাভিনেতার দিকে মনোযোগী হয়ে ওঠেন তিনি।

চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিকে তিনি নায়ক হিসেবে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এরপর চরিত্র অভিনেতা হিসেবে কাজ করেও তিনি পেয়েছেন দর্শকের অপরিসীম ভালোবাসা। দর্শকের ভালোবাসাই তার পথচলার পাথেয়। চলচ্চিত্রের জীবন্ত এই কিংবদন্তি অভিনেতা আজ ৭৯ বছরে পা রাখছেন।

প্রবীর মিত্র ষাটের দশকে ঢাকা ফার্স্ট ডিভিশন ক্রিকেট খেলেছেন, ছিলেন ক্যাপ্টেইন, একই সময় তিনি ফার্স্ট ডিভিশন হকি খেলেছেন ফায়ার সার্ভিসের হয়ে। এছাড়া কামাল স্পোর্টিংয়ের হয়ে সেকেন্ড ডিভিশন ফুটবল খেলেছেন।

বেলাল আহমেদ পরিচালিত ‘নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন প্রবীর মিত্র। প্রবীর মিত্রের ভাষায় তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ‘রিমার্কেবল’ ছবি ‘নয়নের আলো’। সুমিতা দেবী এ ছবিতে প্রবীর মিত্রের অভিনয় দেখে বলেছিলেন, ‘তুমি যদি এ ছবিতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার না পাও তাহলে অভিনয় ছেড়ে, এ দেশ ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যেও।’ কিন্তু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার না মিললেও প্রবীর মিত্র তার দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে, ভালোবাসার জায়গা থেকে অভিনয়ই করে গেছেন আজীবন।

সে ছবিতে না পেলেও পরে তিনি মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘বড় ভালো লোক ছিল’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন।

প্রবীর মিত্রের চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। মূলত ছবিতে কাজের ব্যাপারে তার বন্ধু এ টি এম শামসুজ্জামানই তাকে সহযোগিতা করেছিলেন। ‘জলছবি’র পর নায়ক হিসেবে প্রবীর মিত্র ‘চাবুক’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, জালিয়াত’, ‘তীর ভাঙ্গা ঢেউ’, ‘বড় ভালো লোক ছিল’, ‘রামের সুমতি’, ‘নবাব সিরাজউদদৌলা’সহ আরও বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেছেন। তবে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জীবন তৃষ্ণা’ ছবিতে শিল্পী আবদুল জব্বারের গাওয়া ‘এ আঁধার কখনও যাবে না মুছে আমার পৃথিবী থেকে’ গানটি তাকে ব্যাপকভাবে পরিচিতি এনে দেয়।

প্রবীর মিত্রের উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘চাবুক’, ‘সীমার’, ‘তীর ভাঙা ঢেউ’, ‘শেয়ানা’, ‘রঙ্গীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘মিন্টু আমার নাম’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘অঙ্গার’, ‘পুত্রবধূ’, ‘নয়নের আলো’, ‘জয় পরাজয়’, ‘চাষীর মেয়ে’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘আবদার’ ইত্যাদি। ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ ছাড়া এ মুহূর্তে প্রবীর মিত্র ইফতেখার চৌধুরী পরিচালিত ‘দেহরক্ষী’ ছবিতে অভিনয় করছেন।

আরো অভিনয় করেছেন সুইটহার্ট ( ২০১৬ ) – শঙ্খচিল ( ২০১৬ ),গ্যাংস্টার রিটার্নস ( ২০১৫ ) – বাবা,বিগ ব্রাদার ( ২০১৫ )বিষ (২০১৫) – বোঝেনা সে বোঝেনা ( ২০১৫ ),আয়না সুন্দরী ( ২০১৫ ),রাজা বাবু ( ২০১৫ ),রাজত্ব ( ২০১৪),আগে যদি জানতাম তুই হবি পর ( ২০১৪ ), ডেয়ারিং লাভার ( ২০১৪ ) – রাজার বাবা, নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ ( ২০১৪) ,স্বপ্নছোঁয়া ( ২০১৪ )
সেরা নায়ক ( ২০১৪ ), অনেক সাধনার পরে ( ২০১৪), দেহরক্ষী (২০১৩ ) ,তোমার আছি তোমারই থাকবো ( ২০১৩ ), জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার ( ২০১৩ ), এইতো ভালোবাসা ( ২০১৩ ) – রাণীর বাবা, মাই নেম ইজ খান ( ২০১৩ ), আত্মঘাতক (২০১৩ ),মাই নেম ইজ সুলতান ( ২০১২), ডন নাম্বার ওয়ান ( ২০১২ ) ,জিদ্দি বউ ( ২০১২ ),চেহারা (২০১২) – মোতালেব ,কুসুম কুসুম প্রেম (২০১১) – গার্মেন্টস কন্যা ( ২০১১),বস নাম্বার ওয়ান (২০১১) – রিকসাওয়ালার ছেলে ( ২০১০ ),ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না (২০১০ )

বলো না তুমি আমার (২০১০ ),গোলাপী এখন বিলাতে (২০১০) – মধু ,টপ হিরো (২০১০) ,আমার প্রাণের প্রিয়া (২০০৯) ,পৃথিবী টাকার গোলাম ( ২০০৯),প্রেম কয়েদী (২০০৯ ),তুমি আমার স্বামী ( ২০০৯ ) – পুলিশ অফিসার, মন বসে না পড়ার টেবিল(২০০৯) ,এবাদত (২০০৯ ),আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা ( ২০০৮ ),টিপ টিপ বৃষ্টি ( ২০০৮), স্বামী নিয়ে যুদ্ধ (২০০৮ )
বাবা আমার বাবা ( ২০০৮ ), অস্ত্রধারী রানা, ( ২০০৭ )ভন্ড ওঝ্‌ ( ২০০৬)মমতাজ , ( ২০০৫)লাল সবুজ (২০০৫) – সবুজের বাবা,
হীরা আমার নাম ,জীবনের গ্যারান্টি নাই ( ২০০৪ ) ,ভাইয়ের শত্রু ভাই ( ২০০৪ ),মেঘের পর মেঘ (২০০৪) ,কারাগার (২০০৩)
বউ শাশুরির যুদ্ধ (২০০৩) – জুয়াড়ি (২০০২) ,ভাইয়া ( ২০০২ )

লাল দরিয়া (২০০২) ,মেঘলা আকাশ (২০০১) ,শ্বশুরবাড়ী জিন্দাবাদ (২০০১ ) তোমার জন্য পাগল (১৯৯৯) ,চাওয়া থেকে পাওয়া ( ১৯৯৬ )প্রিয়জন ( ১৯৯৬ ) – স্বপ্নের ঠিকানা (১৯৯৫ ) ,আশা ভালোবাসা ( ১৯৯৫ ) ,মহামিলন (১৯৯৫ ) তুমি আমার ( ১৯৯৪ )ডন (১৯৯৪ ),প্রেমযুদ্ধ ( ১৯৯৪) হৃদয় থেকে হৃদয় (১৯৯৪) –
ত্যাগ (১৯৯৩) -অন্ধ বিশ্বাস (১৯৯২) ,বেদের মেয়ে জোসনা ( ১৯৮৯) , যোগাযোগ (১৯৮৮) , অপেক্ষা (১৯৮৭)রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত (১৯৮৭) ,হারানো সুর (১৯৮৭) , দহন ( ১৯৮৫ ) , মা ও ছেলে (১৯৮৫) ,রামের সুমতি (১৯৮৫) , মিস লোলিতা (১৯৮৫)

নয়নের আলো (১৯৮৪) ,প্রিন্সেস টিনা খান (১৯৮৪) , (১৯৮৩) – রব্বানী ,বড় ভাল লোক ছিল (১৯৮২ ) ,জন্ম থেকে জ্বলছি ( ১৯৮২),দুই পয়সার আলতা (১৯৮২) ,দেবদাস (১৯৮২্‌), অলংকার (১৯৭৮) , অঙ্গার (১৯৭৮) ,জয় পরাজয় (১৯৭৬ ),চরিত্রহীন (১৯৭৫),তীর ভাঙ্গা ঢেউ (১৯৭৫) অভাগী (১৯৭৫), চাষীর মেয়ে (১৯৭৫) , তিতাস একটি নদীর নাম (১৯৭৩)