শিল্পী যখন শিল্পীর পাশেই তো থাকতে হবে -জেসমিন

(অরণ্য শোয়েব)-জেসমিন একটি ফুলের নাম এবং এই নামের অর্থ সফল বা বিজয়ী নির্দিষ্ট করে।ফুল সাধারণত গাছে থাকলে সৌন্দ্যর্য বৃদ্ধি পায় কিন্তু সেই ফুলের নাম যদি আদম সন্তনের হয় তাহলে সৌন্দর্য্য আরো একটু বৃদ্ধি হয়।

যাকে নিয়ে এত কথা সেই সৌন্দর্য্য হচ্ছেন, প্রায় চারশোর অধিক সিনেমায় অভিনয় করা অভিনেত্রী চিত্রনায়িকা জেসমিন আক্তার। বাংলাদেশের জনপ্রিয় সকল নায়ক -নায়িকা এবং প্রযোজক পরিচালকদের সাথে কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী।

যার সিনেমায় আবির্ভাব ঘটে আশির দশকের শেষের দিকে শিশুশিল্পী এবং নাচের গ্রূপের মধ্যে দিয়ে।এরপরে নায়িকার চরিত্রে প্রায় ছয়টার মতো সিনেমা অভিনয় করেন এছাড়াও একশোটির মতো সিনেমায় আইটেম কন্যা হয়েছেন এবং বোনের ভূমিকায় প্রায় ত্রিশ- পঁয়ত্রিশ টির  মতো সিনেমায় কাজ করেছেন জেসমিন আক্তার। কমেডিয়ান দিলদার কাবিলা ও আফজাল শরীফ এর সাথে অগণিত সিনেমায় নানান চরিত্রে ছিলেন এই চিত্রনায়িকা।

Heroine Jesmin akter

জেসমিন ছিলেন , বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পরপর দুইবার কার্যনির্বাহী সদস্য।এবারও তিনি নির্বাচন করছেন একই পদে মিশা-জায়েদ আর প্যানেল থেকে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে জেসমিন আক্তার ‘বাংলাপ্রতিদিন ডটকম’কে জানান -আমি দুইবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলাম।শিল্পীদের জন্য হয়তো আহামরি কিছু করতে পারিনি কিন্তু আমি শিল্পীদের বিপদে এবং ছিলাম তাদের দরকারে।আমি ছুটে গেছি বারবার সমিতির জন্য এখানে ওখানে, যখন যেখানে,প্রয়োজন ছিল।আমার নির্বাচিত পদ যতটুকু তার চেয়ে বেশি সবসময় কিছু করতে চেয়েছি।আমি বলতে চাই না যে ‘আমি এটা করেছি ওটা করেছি ‘ তবে হ্যা শিল্পীদের পাশে সবসময় ছিলাম এবং সামনেও থাকবো।শিল্পীদের জন্য কিছু করতে গেলে পদের দরকার হয়না ,কিন্তু তারপরও কথা বলার জন্য একটি আসন দরকার হয়।আমি কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী তাই করে দেখাবো যতটুকু সম্ভবপর হয়।একজন শিল্পী হয়ে যদি শিল্পীদের পাশেই না থাকতে পারি তাহলে কেমন শিল্পী হলাম ? কথা দিচ্ছি শিল্পীদের পাশে থাকবো এবং তাদের স্বার্থরক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।আমার জায়গায় যদি অন্য কেউ এসে ভালো কিছু করতে পারে শিল্পীদের জন্য ,তাহলে তাকে স্বাগতম জানানোর জন্য ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবো আমি।

Heroine Jesmin akter

জেসমিন আরো বলেন – আসলে এখানে আমরা একটি পরিবার।এবং পরিবারে কিছু দেখতে গেলে অবশ্যই সেটার যোগ্যতা প্রমান করতে হয়।মিশা -জায়েদের প্যানেলে অনেক সিনিয়র অভিনেতা -অভিনেত্রীরাও আছেন এবং তাদের সমর্থন দিচ্ছেন সিনেমাপাড়ার সবাই।মিশা-জায়েদ আমলে কি উন্নয়ন ঘটেছে ? তা কিন্তু সিনেমাপাড়ার সকলেই জানেন,এটা নতুন করে বলার কিছুই নেই।শেষে একটি কথাই বলবো ,আমরা শিল্পীদের পাশে আছি এবং সবসময় থাকবো এবং সুষ্ঠু একটি নির্বাচন হোক এটাই চাই ।

উল্লেখ্য, এ-বাঁধন ছিঁড়ে যাবেনা ,গুপ্তঘাতক,রিভেঞ্জ ,রঙিন উজানভাটি,হৃদয় বন্ধন ,সুলতান ,কু-খ্যাত খুনি ,আরমান ,প্রেমিক নাম্বার ওয়ান ,রঙিন সাম্পানওয়ালা ,রঙিন রসের বাইদানি, ডেয়ারিং, ভালোবাসার রং ছবিগুলো জেসমিন আক্তারকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে এনিয়ে দেয়।

কিছুদিন আগে তার অভিনীত ‘পদ্ধার প্রেম’ শিরোনামের একটি সিনেমা ইন্ডিয়াতে মুক্তি পেয়েছে ,বাংলাদেশে মুক্তি পাবে কিছুদিন পরই।বর্তমানে ও মাই লাভ এবং ও মাই ডার্লিং, বেসামাল ছবি মুক্তির অপেক্ষায় আছে এ-নায়িকার।