ভালো-মন্দের এক বছর

রুহুল আমিন ভূঁইয়া

চোখের পলকেই অতীত হতে চলছে আরও একটি বছর। শীতবন্দনা রেখে চলো ফিরে যাই অতীতে। হিসাব মিলাই লাভ-ক্ষতির, পাওয়া না পাওয়ার। স্মৃতির করতল ভরিয়ে তুলি শোবিজের রাখিবন্ধনে। এ বছর অনেক প্রাপ্তিই আছে, আবার এসবের বিপরীতে হারিয়ে গেছে অনেক প্রিয় মুখ। আনন্দ বেদনার মিশেলেই জীবনের চলমানতা রয়ে যায় অব্যাহত। সামনের দিনগুলোর সোনালি অর্জন সমৃদ্ধ করবে আগামী জীবন এই প্রত্যাশায় চলমান থাকবে সামনের পথে এগিয়ে যাওয়া। চলতি বছর ছিল শোবিজ অঙ্গনের জন্য আলোচনা-সমালোচনার বছর। কেমন ছিল দু-হাজার উনিশ?

চলচ্চিত্র

বিগত কয়েক বছর ধরে ঢাকাই চলচ্চিত্র নিয়ে অভিযোগের কমতি নেই। এই অভিযোগ মূলত ব্যর্থতার আর ভেঙ্গে পড়ার। অনেকের মতে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশীয় চলচ্চিত্র। প্রতি বছর নতুন প্রত্যাশা নিয়ে আরম্ভ হলেও ব্যর্থতার পাল্লা ভারী করেই বছর শেষ করতে হয়। আগের কয়েক বছরের মত ঢালিউডের জন্য দু-হাজার উনিশ সাল ব্যবসায়িকভাবে সুবিধাজনক ছিল না। মন্দা অব্যাহত ছিল। দু-হাজার উনিশ বিদায় লগ্নে। নতুন বছর অর্থাৎ দু-হাজার বিশ বরণ করে নেওয়ার অপেক্ষায়। সিনেমার জন্য কেমন ছিল দু-হাজার উনিশ? সবার মনে প্রশ্নটি ডালপালা মেলেছে। এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে হিসেব-নিকেশ। একটু পেছনে ফিরে তাকানো যাক। প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির তথ্যমতে, দুই হাজার পনেরো সালে দেশীয় সিনেমা মুক্তির সংখ্যা ছিল ৬৭টি। ২০১৬-১৭ সালে তা কমে ৫৬ এ আসে। এবং এর পরের বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে মুক্তি পায় দেশীয় ৪৮টি সিনেমা।

চলতি বছর এই রির্পোট লেখা পর্যন্ত মুক্তি পায় ৫২টি সিনেমা। তার মধ্যে আমদানি করা-১০, যৌথ প্রযোজনার-২। অর্থাৎ গত কয়েক বছরের তুলনায় দেশীয় ছবির সংখ্যা কমে দাড়িয়েছে ৪০। তবে আরও দুইটি ছবি মুক্তির কথা রয়েছে তবে সেগুলো ব্যবসায়িক ভাবে লাভবান হবার সম্ভাবনা নেই। যা সিনেমার জন্য খুবই দু:জনক। চলতি বছর শুরু হয় জয়া আহসান অভিনীত কলকাতা থেকে আমদানি করা ‘বিসর্জন’ ছবি দিয়ে। এছাড়া প্রচারবিমুখ দেশীয় ‘আই অ্যাম রাজ’ নামের মানহীন একটি সিনেমা মুক্তি পেলেও মুখ থুবড়ে পরে সিনেমাটি। পুরো একটি মাস সিনেমাখরা কাঁটিয়ে ফেব্রুয়ারিতেও চলচ্চিত্রর বাজার মন্দা ছিল।

কেননা ভাষা আন্দোলন নিয়ে তৌকীর আহমেদের ‘ফাগুন হাওয়া’ নিয়ে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট আশাবাদী থাকলেও দর্শকখরা ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্যবসায়িক ভাবেও ছবিটি আশানুরুপ ফল পেতে ব্যর্থ হয়। চলচ্চিত্র নির্মাণ করে লগ্নিকৃত অর্থ তুলতে পারছেন না বেশিরভাগ প্রযোজক। সঙ্গে রয়েছে অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে প্রযোজকদের মতবিরোধ। এরপর জিমিয়ে জিমিয়ে হলশূন্য প্রেক্ষাগৃহে যে কয়টি ছবিই মুক্তি পেয়েছে সবগুলো ছবি হতাশ করেছে।

চলতি বছরে মুক্তি পাওয়া ছবির মধ্যে একমাত্র শাকিব খান অভিনীত ও প্রযোজিত, মালেক আফসারী পরিচালিত ‘পাসওয়ার্ড’ ছবিটি ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়েছে। এছাড়া আর কোনো ছবি ব্যবসা করা তো দূরের কথা দর্শক টানতেই ব্যর্থ হয়েছে। তবে চলতি বছর বিভিন্ন কারনে আলোচনায় ছিল শাকিব-ববি হক অভিনীত ‘নোলক’ সিনেমাটি। তবে আলোচনায় আসলেও ছবিটি থুবড়ে পরে। পুরো বছর জুড়ে মুক্তি পাওয়া লো-বাজেটের এই সিনেমাগুলো দর্শক আকর্ষণের ব্যর্থ হয়। বলা যায় একটি ছবি ছাড়া আর কোন সিনেমা তেমনভাবে আলোচনায় আসতে পারেনি।

চলতি বছর ‘দেশ বাংলা মাল্টিমিডিয়া’ থেকে বেশ কয়েকটি ছবির কথা থাকলেও আলোচিত ‘ক্যাসিনো’ অভিযানের পর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে। যার কারনে থমকে রয়েছে নির্মাণাধীন‘আগুন’ সিনেমাটি। ছবিটি পরিচালনায় রয়েছেন বদিউল আলম খোকন। বছরের শুরুটি ঠিক যেভাবে হয়েছিল বছরের শেষটি বলা যায় অনেকাংশে সেভাবেই হচ্ছে। ডিসেম্বর মাস শেষ লগ্নে তারপরও এখনও কোনো ছবি সু-খবর দিতে পারেনি। দীর্ঘ ১১টি মাস সিনেখরা কাটিয়ে বিজয়ের মাস ডিসেম্বর বলা যায় সিনেমার জন্য সু-বাতাশ বয়ে নিয়ে এসেছে। কারণ চলতি মাসে বেশ কয়েকটি নতুন সিনেমার ঘোষণা এসেছে এবং এরইমধ্যে কয়েকটি সিনেমার কাজ শুরু হয়েছে।

যার কারনে প্রাণ ফিরে পেয়েছে, প্রাণহীন এফডিসি। চলচ্চিত্র শিল্পের বাণিজ্যিক বিপর্যয়ের কথা বলা হলেও পরিস্থিতি এখন ক্রমশ উত্তরণের দিকে যাচ্ছে বলেই নির্মাতারা মনে করছেন। বর্তমানে অন্তত এক ডজন ছবির শুটিংয়ের কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে বসন্ত বিকেল, ইয়েস ম্যাডাম, দখল, তোলপাড়, ওস্তাদ, ক্যাসিনো, বীর, ইত্তেফাক, আনন্দ অশ্রু, তুই ছাড়া শূন্য এ জীবন, তোরে কতো ভালোবাসি’সহ আরও কয়েকটি ছবি। এছাড়াও নির্মাণাধীন রয়েছে আরও অনেক ছবি।

নাটক

চলচ্চিত্রর মতো নাটকেও নানা সংকট। অভিযোগ রয়েছে ভালো গল্পকার নেই, প্রযোজক নেই, প্রয়োজন অনুযায়ী বাজটে নেই। একদিনে শূটিং শেষ করার পায়তারা ইত্যাদি অভিযোগ রয়েছে। যা নাটক পাড়ায় কান পাতলেই প্রতিনিয়ত শোনা যায়। বাজেট স্বল্পতার মাঝেও বছর জুড়েই তৈরি হয়েছে একক, ধারাবাহিক আর টেলিছবি। তবে শুধু টিভি পর্দার জন্যই নয়, ইউটিউব, বায়োস্কোপ, ইফ্লেক্সের মতো বিভিন্ন ডিজিটাল প্লাটফর্মের জন্য নাটক নির্মাণ করেছেন নির্মাতারা। টেলিভিশন একে বলা হয় সব শ্রেণির মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। বছরের পুরোটা সময় জুড়েই নাটক নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন ছোট পর্দার শিল্পী-নির্মাতারা। সময়ের সাথে সাথে যেমনি বেড়েছে নাটকের সংখ্যা, ঠিক তেমনি নাট্যনির্মাতাদের সংখ্যাও।

জন্ম নিয়েছে কিছু নতুন জুটিও। তবে বেশিরভাগ নাটকের কহিনী থাকে প্রেম ও বিরহকেন্দ্রিক। একটা সময় টেলিভিশনে মানসম্মত পারিবারিক নাটকের সয়লাব থাকত। এখন সেসব নাটরে জায়গা দখল করেছে ভালবাসা নির্ভর গল্পের নাটক-টেলিছবি। এবং ক্রমেই ভিউয়ের দৌড়ে নির্মিত হচ্ছে ‘অশ্লীল’ বাক্যর সুড়সুড়ি দেওয়া নাটক। যার কারনে দিন দিন মানুষ নাটক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এছাড়াও ভাল নাটক নির্মিত হলেও বিজ্ঞাপন বিড়ম্বনায় প্রায় নব্বই ভাগ নাটকই হারায় দর্শক। তাই দিনে দিনে টেলিভিশন থেকে ইউটিউব মুখি হচ্ছে দর্শক।

চলতি বছর যতগুলো নাটক নির্মিত হয়েছে তার অধিকাংশ নাটক ছিল সুড়সুড়ি দিয়ে মানুষ হাসানোর গল্পে ভড়া। কিন্তু এর ভেতরেও বেশ কিছু নাটক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে তার মধ্যে রয়েছে মাবরুর রশীদ বান্নাহর আশ্রয়, লেডি কিলার-২, বেকার ও আমি তোমার গল্প হবো, ভিউয়ের বিচারে এগিয়ে ছিল কাজল আরেফিন অমি’র ব্যাচালার ঈদ। সাজিন আহমেদ বাবুর উবার, শেখ সেলিম এর পাওয়ার অব লাভ, তুষার খানের শূন্যতায় পূর্ণতা, রিদম খান শাহীনের জগত সংসার, আজাদ কালামের জমজ-১২, মোস্তফা কামাল রাজের শিশির বিন্দু, আই এ্যাম ওনেস্ট, বুক ভরা ভালোবাসা-২ ও ইনায়েত, তপু খানের ফ্রাইডে লাভ, তুহিন হোসন এর ফ্যামিলি সিক্রেট, অঞ্জন আইচ পরিচালিত আয়নার গল্প, সাগর জাহানের মায়া সবার মতো হয় না।

অনিমেষ আইচের ফেরা, ইফতেখার আহমেদ ফাহমির কিংকর্তব্যবিমূঢ়, মিজানুর রহমান আরিয়ানের কেস ৩০৪০, রঞ্জনা আমি আবার আসব, সাবলেট, লাইফ ইন্সুরেন্স, ২২ শে এপ্রিল, শেষটা সুন্দর ও দেখা হবে কি, মারুফ মিঠুর সেই রকম বাকি খোর, মহিদুল মহিমের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, গোলাপি কামিজ, মন বদল, আনোয়ার দ্যা প্রোডাকশন বয় ও এই শহরে ভালবাসা নেই, আশফাক নিপুণের এই শহরে, ফেরার পথ নেই ও আগন্তক, শিহাব শাহীনের এক হৃদয়হীনা ও বাউন্ডুলে, ইমরাউল রাফাতের আমার বউ, হানিফ সংকেতের অজ্ঞ-বিজ্ঞ সমাচার, রেদওয়ান রনির বিহাইন্ড দ্য পাপ্পি, শামস করিমের আম্মা জান।

দীপু হাজরার জয়েন ফ্যামিলি, প্রবীর রায় চৌধুরীর রিলেশনশিপ, মুরসালিন শুভর রাজন : দ্য কিং, শাফায়েত মনসুর রানার আমাদের সমাজ বিজ্ঞান, তানিম রহমান অংশুর দরজার ওপাশে ও স্বর্ণলতা, আবু হায়াত মাহমুদের শঙ্খিনী ও রূপা ভাবী। ইউটিউব, বায়োস্কোপ, ইফ্লেক্সসহ বিভিন্ন প্লাটফর্ম বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে নাটকের সংখ্যা। তাই তো সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে ২০২০ সালে গল্পের পাশাপাশি নির্মাণশৈলীতে নজড় দিতে হবে পরিচালক-প্রযোজকদের।

হারিয়েছি যাদের

সুবীর নন্দী: একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশবরণ্য সঙ্গীতশিল্পী সুবীর নন্দী। তিনি আধুনিক বাংলা গানের এক কিংবদন্তী শিল্পী, সুরের রাজকুমার। শ্রোতাদের তিনি উপহার দিয়েছেন ‘ও আমার উড়াল পঙ্খিরে’, ‘কেঁদো না তুমি কেঁদো না’-র মতো অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান। গত ৭ মে মারা যান গুনী এই শিল্পী। তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে রয়েছে শ্রোতাপ্রিয় অসংখ্য গান।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল: বরেণ্য গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক-মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত নাম। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল বিভিন্ন জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা ছিলেন। চলতি বছরের গত ২২ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৯৭০ দশকের শেষ লগ্ন থেকে আমৃত্যু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পসহ সঙ্গীত শিল্পে সক্রিয় ছিলেন। তিনি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং রাষ্ট্রপতির পুরস্কার-সহ অন্যান্য অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন। তিনি ১৯৭১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

খালিদ হোসেন: একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত নজরুলসংগীত শিল্পী ও গবেষক খালিদ হোসেন গত ২২ মে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। সুরসাধক খালিদ হোসেন পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশে নজরুলগীতির শিক্ষক, গবেষক ও শুদ্ধ স্বরলিপি প্রণয়নে কাজ করেছেন। খালিদ হোসেনের ছয়টি নজরুল সংগীতের অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর একমাত্র আধুনিক গানের অ্যালবাম ‘চম্পা নদীর তীরে’। এ ছাড়া এই সুরসাধকের ১২টি ইসলামী গানের অ্যালবাম রয়েছে। তাঁর সর্বশেষ নজরুলগীতির অ্যালবাম ‘শাওনও রাতে যদি’। নজরুলসংগীতে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০০ সালে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক পান খালিদ হোসেন। এ ছাড়া তিনি নজরুল একাডেমি পদক, শিল্পকলা একাডেমি পদক, কলকাতা থেকে চুরুলিয়া পদকসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

শাহনাজ রহমতুল্লাহ: বাংলা গানে কিংবদন্তিতুল্য খ্যাতিসম্পন্ন গায়িকা শাহনাজ রহমতুল্লাহ। চলতি বছরের ২৩ মার্চ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শাহনাজ রহমতুল্লাহ দেশাত্মবোধক গান গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে রয়েছে-এক নদী রক্ত পেরিয়ে, একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়ে, একতারা তুই দেশের কথা বলরে‌ এবার বল, প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, আমায় যদি প্রশ্ন করে, যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়। ১৯৯২ সালে তিনি একুশে পদক এবং ১৯৯০ সালে ‘ছুটির ফাঁদে’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ নারী কণ্ঠশিল্পী হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

টেলি সামাদ: বাংলা চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেতা টেলি সামাদ। গত ৬ এপ্রিল স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ৬০০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয়ের বাইরে ৫০টির বেশি চলচ্চিত্রে তিনি গানও গেয়েছেন।

মাহফুজুর রহমান: দশ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া বরেণ্য চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খান। গত ৬ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মাহফুজুর রহমান খান ৭০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

আজিজ: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা আজিজ। চলচ্চিত্রে ‘কালা আজিজ’ নামে পরিচিত। প্রায় তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন কালা আজিজ। মূলত কৌতুক অভিনেতা হিসেবে তার বেশ খ্যাতি ছিল।

সালেহ আহমেদ: বর্ষীয়ান অভিনেতা সালেহ আহমেদ। গত ২৪ এপ্রিল রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ধারাবাহিক নাটক ‘অয়োময়’ ও ‘আগুনের পরশমণি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয় জগতে তার পদচারণা শুরু হয়। এর পর অসংখ্য টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

আনিস: স্বনামধন্য কৌতুক অভিনেতা আনিসুর রহমান আনিস। গত ২৯ এপ্রিল রাজধানীর টিকাটুলীর অভয় দাস লেনের বাসায় তিনি ইন্তেকাল করেন। আনিস চলচ্চিত্রে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন অভিনেতা নয়, চিত্রসম্পাদক হিসেবে। ১৯৬০ সালে ‘বিষকন্যা’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায়নি। ১৯৬৪ সালে মুক্তি পায় আনিস অভিনীত প্রথম ছবি জিল্লুর রহমান পরিচালিত ‘এইতো জীবন’। তারপর থেকে তিনি নিয়মিত অভিনয় করেই গেছেন। অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের হাসির খোরাক যুগিয়েছেন। তিনি এমন একজন অভিনেতা যিনি জীবনভর সবাইকে শুধু হাসিয়েছেন। এজন্য তাকে ‘হাসির রাজা’ বলাই যায়।

এছাড়াও গত ১৯ মে না ফেরার দেশে চলে গেলেন অভিনেত্রী মায়া ঘোষ। চলতি বছরের ২ জুন না ফেরার দেশে চলে যান প্রখ্যাত নাট্যকার, অভিনেতা ও ভাষাসৈনিক মমতাজ উদ্দীন আহমদ। চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক বাবর মারা যান ৬ আগস্ট। ষাটের দশকের সিনেমার প্রখ্যাত প্রযোজক ইফতেখারুল আলম ৫ জানুয়ারি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা নাজমুল হুদা মিন্টু গত ২ জুন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মস্তিস্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ অক্টোবর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তরুণ নাট্যনির্মাতা ও অভিনেতা হুমায়ূন সাধু। ১৫ ডিসেম্বর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তরুণ শিল্পী, সুরকার, সংগীত পরিচালক পৃথ্বী রাজ।