‘দুই বাংলার ভাষা এক হলেও উচ্চারণে অনেক ফারাক’

বিনোদন প্রতিবেদক: বাংলাদেশে নেটফ্লিক্স এর গ্রাহক এখন অনেক। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে এই মাধ্যমটি আয় করছে ত্রিশ লাখ ডলারের মত। এই আয় বহুগুণে বেড়ে যেতো যদি নেটফ্লিক্স ওদের কনটেন্টে বাংলাদেশী কন্টেন্ট যোগ করতো। কিন্তু সেটা করতে পারেনি এখনও। অন্যদিকে কলকাতার ভেঙ্কটেশ এন্টারটেইনমেন্ট এর হইচই কিছু অশ্লীল কন্টেন্ট দিয়ে নজরে এলেও সমাজের বেশিরভাগ লোক এটা দেখতে অনাগ্রহী। তাছাড়া হইচই এর পুঁজির জোরও নেটফ্লিক্স কিংবা জি ফাইভ এর মতো নয়।

বাংলাদেশের বাজার দখলের প্রতিযোগিতায় হইচই কিংবা জি ফাইভ আসতে চাইলেও ওদের ভুল স্ট্র্যাটেজি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওদের বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সাথে এখনকার বড় প্রোডাকশন হাউজগুলোর যোগাযোগ এমনকি জানাশোনা নেই বললেই চলে।

বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ক্রাউন এন্টারটেইনমেন্ট এর ডেপুটি সিইও তাজুল ইসলাম বলেন, এখনকার মার্কেট বিশাল। আঠারো কোটি মানুষ, যাদের প্রায় পাঁচ কোটির হতেই মোবাইল ফোন। এই বাজার তো পশ্চিম বঙ্গে নেই। বাংলাদেশের এই বাজার যদি নেটফ্লিক্স বা জি৫ ধরার ব্যাপারে সিরিয়াস হতো তাহলে ওরা এখনকার নির্মাতাদের দিয়ে নাটক, ওয়েব সিরিজ, ওয়েব ফিল্ম ইত্যাদি বানাতো। একটা বিষয় বুঝতে হবে, দুই বাংলার ভাষা এক হলেও উচ্চারণে অনেক ফারাক। তাছাড়া আমাদের এখানে যে স্ট্যান্ডার্ড এর নাটক বা ওয়েব সিরিজ হচ্ছে, সেটা ভারতে হচ্ছেই না।

বাংলাদেশের বিশাল বাজার ধরতে হলে এখানকার খ্যাতিমান নির্মাতাদের দিয়েই কন্টেন্ট বানাতে হবে। কিন্তু বেশিরভাগ খ্যাতিমান নির্মাতার পক্ষে এতো বিনিয়োগ করে কন্টেন্ট বানানো অসম্ভব। তাছাড়া বিদেশী কোনো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে কন্টেন্ট সরবরাহ করতে গেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। যদিও এখন যারা ওসব প্ল্যাটফর্মে কন্টেন্ট দিচ্ছেন, ওদের কারোরই বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেই।

ভারতে জি নেটওয়ার্ক কিংবা স্টার নেটওয়ার্ক কন্টেন্ট নিচ্ছে নামিদামী প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকেই। কারণ, এক্ষেত্রে কনটেন্টের মান ভালো থাকে এবং পাশাপাশি টাইম শিডিউল মানা সম্ভব হয়, যা ছোটখাট প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গুলোর পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

এখন দেখার বিষয় হলো অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং প্লাটফর্মের দুনিয়ায় বাংলাদেশি দর্শককে আকৃষ্ট করতে অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে নেটফ্লিক্স, জি-ফাইভ, হইচই নাকি দেশীয় কোন প্রতিষ্ঠান। বিনোদনের নতুন মাধ্যমে যারাই দেশীয় উচ্চারনে, দেশীয় সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলাদেশী টেকনেশিয়ান ও আার্টিস্ট এর সমন্বয়ে কন্টেন্ট বানানোর চিন্তা করবে এই বাজারটা দখল করতে পারবে বলেই বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

অনলাইন প্লাটফর্মের দুনিয়ায় দেশীয় বাংলাঢোল, আইফ্লিক্স চেষ্টা করছে দর্শককে আকৃষ্ট করতে কিন্তু অধিকাংশ দর্শকই তাদের কন্টেন্ট ও অবস্থান সম্পর্কে অন্ধকারেই আছে মার্কেটিং পলিসির কারনে। সেক্ষেত্রে খুব শীঘ্রই নেটফ্লিক্স এর মতো প্রতিষ্ঠান দখল করে নেবে আমাদের বাজার।