টিকিটের টাকা উসুল করার মতো ছবি:ডনগিরি

৪০টি শুক্রবার মুক্তি পায় শাহ আলম মন্ডল পরিচালিত তৃতীয় ছবি ডনগিরি।দেশের নামকরা সকল তারকা শিল্পীদের নিয়ে এই ছবি, প্রথম এবং দ্বিতীয় দিনেই হলপাড়ায় সাড়া ফেলে।

কোরবানি ঈদের পরে প্রথম কোনো ছবি ‘ডনগিরি’ যেটি হলের মালিকদের মুখে হাসি ফুটাতে পেরেছে।কারণটা খুব সহজ ,কোরবানী ঈদের পরে এটি এক মাত্র ছবি যা’কিনা প্রথম দিনেই টেবিল কালেকশনে টনক নড়ে দিয়েছেন ডনগিরি ছবিটি।যদিও অনেকগুলো ছবি কোরবানি ঈদের পরে মুক্তি পেয়েছে তবে ‘ডনগিরি’র মতো প্রথম দিনেই এত আয় করার মতো ছবি কম ছিল ।হল মালিক থেকে শুরু করে বুকিং এজেন্ট ও দর্শক সবাই ছবিটি নিয়ে আশাবাদ ব্যাক্ত করছেন।

ছবিটির গল্প এবং মেকিং, অভিনয় ও দর্শকদের অভিমত নিয়ে পোস্টমর্টেম করেছেন ‘বাংলা প্রতিদিন ‘এর বিনোদন বিভাগের প্রধান -অরণ্য শোয়েব !!

ডনগিরি
——————-

ভাবনা- রোম্যান্টিক এ্যাকশন ড্রামা
গল্পের উৎস- জোসেফ শতাব্দী
নির্মাতা – শাহ আলম মন্ডল
প্রযোজনা ও পরিবেশনাঃ এস.এস কথাচিত্র ইন্টারন্যাশনাল
অভিনয়ঃ বাপ্পী চৌধুরী (হ্যাপি),আনিসুর রহমান মিলন(আজাদ),এমিয়া এমি (এমি),আলীরাজ (পাশা),অমিত হাসান (পিটার মঙ), সাদেক বাচ্চু (সিজার মঙ), হাসান ইমাম (দিদার চৌধুরী), লায়লা হাসান (এমির দাদী), কাজী হায়াৎ (হ্যাপির বাবা), গুলশান আরা পপি (হ্যাপির মা), অরূণা বিশ্বাস, কমল পাটেকার, জাহিদ আহমেদ, সীমান্ত,রাকিব ,সুশীল রায় ,জিয়া তালুকদার ,প্রমুখ।
মুক্তিকাল- ১৮ই অক্টোবর, ২০১৯

রেটিং -৮.৫০/১০
কাহিনী, চিত্রনাট্য এবং সংলাপ————-
এই ছবির কাহিনী ও সংলাপ লিখেছেন জনপ্রিয় চিত্রনাট্যকার জোসেফ শতাব্দী। যিনি আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির খুবই পরিচিত একজন চিত্রনাট্যকার। আশির দশকে প্রখ্যাত পরিচালক দেওয়ান নজরুলের সাথে ওনার একটা জুটি চিত্রনাট্যকার-পরিচালনা দাড়িয়ে গিয়েছিল। এ-জুটির “আসামী হাজির” ছবিটি সেই দশকের অন্যতম প্রশংসিত ও ব্যবসাসফল বাণিজ্যিক ছবি। এছাড়াও এজুটি “দোস্ত দুশমন”, “বারুদ” এর মতো বেশ কয়েকটি ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিয়েছেন। আশির দশকের সফলতা তিনি নব্বই দশকে চলমান রেখেছেন। বাংলার স্টাইল আইকন সালমান শাহ এর জনপ্রিয় দুটি ছবি “বিক্ষোভ” ও “শুধু তুমি” এর গল্পকার ছিলেন তিনি।

এরপরের সময়টাতে দেখা যায় শাকিব খানকে আজকের অবস্থানে পৌছে দেওয়ার পেছনে তার গল্প যথেষ্ট অবদান রেখেছে। শাকিব খানের “সাহসী মানুষ চাই”, “কোটি টাকার কাবিন”, “চাচ্চু”, “দাদীমা” প্রভৃতি ছবিগুলির গল্পকার ছিলেন জোসেফ শতাব্দী।

সেইভাবনায় “ডনগিরি” ছবির গল্প সেই গতানুগতিক ধারা অনুসরণ করেছে, ব্যতিক্রম অনেককিছুই হয়েছে। এরকম গল্প আমাদের বাংলা ছবির ইতিহাসে খুঁজলে কম।গল্পে দেখা যায়, পাশা (আলীরাজ) আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন। চীন থেকে আসা এক ডন পাশাকে লোকাল সিন্ডিকেটের চেয়ারম্যান বানিয়ে দে। আকাঙ্ক্ষিত সিন্ডিকেটের চেয়ারম্যান থাকায় চারিদিকে তার শত্রুর অভাব নাই। দিনের পর দিন তাকে মৃত্যুভয়কে সামলে চলতে হয়। এসময় ফ্ল্যাশব্যাকে দেখা যায়, একসময় তিনি তার ক্ষমতা ও সম্পত্তির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আজাদ নামে এক ছোট্ট ছেলেকে রাস্তা থেকে তুলে এনে লালনপালন করা শুরু করেছিলেন। পাশার এরকম অস্বাভাবিক জীবনযাপন সহ্য করতে না পেরে তার স্ত্রী (অরূণা বিশ্বাস) একমাত্র মেয়েকে নিয়ে আলাদা হয়ে যান। পাশা এতে অনেক কষ্ট পেলেও আজাদ (আনিসুর রহমান মিলন) কে তিনি বড় করে তোলেন, তার মতোই নেতৃত্ব দেওয়ার মতো প্রশিক্ষিত করে তোলে।

গল্পের এইটুক পর্যন্ত ঠিক ছিল, ছবির ট্রেইলারে এতোটুকু মোটামুটি দেখানো হয়। এরপর দেখানো হয় সেই আজাদের জীবনে একসময় প্রেম আসে। আজাদ তার কালো জীবন ভুলে প্রেমের জীবনে ডুব দেয়, পরক্ষণে জানতে পারে তার প্রেমিকা এমি আরেকজনকে (বাপ্পী) ভালোবাসে। এরপর আজাদ তার ভালোবাসা ও নিজের অতীত পরিচয় দুই ধরনের ক্রাইসিসে ভোগে। সেটার সমাধান কি করে হয় সেটাই দেখা যায় এছবির পরবর্তী অংশে।

ছবির একেকটা পাঞ্চলাইন ব্যাতিক্রম ভঙ্গিমায় উপস্থাপন করা হয়েছে। “আমি সাপের বাচ্চা সাপ; সাপ কাউকে চুমা দেয় না, ডাইরেক্ট খিছছ!”, “কারে ভাবিস ভুত? আমি হলাম তোদের বাপ, তোরা আমার পুত!” পাঞ্চলাইনটা আরো একটু ভালো হতে পারতো। এছাড়া চিত্রনাট্য মোটামুটি, কোনোরকমের আহামরি টুইস্ট নেই তবে দর্শক নিয়েছে।

রেটিং -৭\১০
নামকরণ———–
২০১৬ সালে ছবিটির শ্যুটিং শেষ হয়, তখন ছবির নাম ছিল “সাদাকালো প্রেম”। এরপর গতবছর ঈদ-উল-আযহা তে যখন এছবি মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন ছবির নাম বদলে হয়ে গেলো “ডনগিরি”।

যেকোনো বাণিজ্যিক সিনেমা মুক্তির আগে সফলভাবে দর্শককে আকৃষ্ট করতে পারার পেছনে দুটি জিনিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। প্রথমটি হলো সিনেমার পোস্টার, আর দ্বিতীয়টি হলো সিনেমার নাম। পরিচালকের ভাষ্যমতে, তিনি যখন কাকরাইল পাড়ায় এই ছবির পোস্ট প্রডাকশনের কাজ করছিলেন, তখন কেউই “সাদাকালো প্রেম” নামটির প্রতি ততটা আগ্রহ দেখায়নি।

তাদের ধ্যানধারণা অনুযায়ী এধরণের নাম এখন ব্যাকডেটেড। তাই তিনি নাম পরিবর্তন করে “ডনগিরি” রেখেছেন। একজন পরিচালক চাইলেই তার ছবির নাম সুবিধামতো পরিবর্তন করতে পারেন, অতীতে এমন পরিবর্তন অনেকেই করেছেন। কিন্তু এক্ষেত্রে নাম যখন পরিবর্তন করতেই হবে, একটু ভেবেচিন্তে তো নতুন নাম রাখা উচিত! নাম শুনে মনে হচ্ছে ক্রাইম-এ্যাকশনে ভরপুর কোনো ছবি, বাস্তবে সেটাই হলো কিছুটা।

রেটিং -৯/১০
নির্মাণ ——–
পরিচালক শাহ আলম মন্ডলের তৃতীয় ছবি এইটা এর আগে “ভালোবাসা সীমাহীন” (২০১৪)এবং “আপন মানুষ” (২০১৭) দুটো ছবি উপহার দিয়েছিলেন সিনেমাপ্রেমীদের যদিওএর মধ্যে “আপন মানুষ” ছবিটি বেশ দর্শক মহলে সাড়া ফেলেছে এবং ভালো ব্যবসা করেছিল। সেই সফলতাই যেনো তাকে সাহস জোগালো আজকের “ডনগিরি” বানানোতে।বাপ্পী-এমি-মিলন তিনজনের সাথেই পৃথকভাবে একটি করে ছবিতে তিনি কাজ করেছেন।পূর্বে তিনি তার পরিচালনা নিয়ে এখানে আর বেশিকিছু বলার নেই।কিছু ক্যামেরার কাজ ছিল অসাধারণ।

রেটিং -৯.৫০ \১০ (বাপ্পি-৮/১০ ,মিলন-১০/১০,এমিয়া এমি-৬.৫০/১০)
অভিনয়———–

হিসাব করে যদি বলে, তবে এই সিনেমায় অনেকেরই অভিনয় মন ছুঁয়ে গেছে। উচ্চবাচ্য করা, বড়বড় সংলাপ আওড়ানো ছিল.তবে সেগুলো বাড়তি বিনোদনের খোরাক ছিল। যদিও ছবি দেখার আগ পর্যন্ত পোস্টার কিংবা ট্রেইলার দেখে কোনভাবেই বোঝা যায়নি,দুই নায়কের চরিত্র। অন্যান্য ছবির তুলনায় এই ছবিতে বেশি এ্যাকশন সিক্যুয়েন্সে দেখতে পেলাম। যদিও নির্মাতা যা দেখিয়েছেন, তাতে বাণিজ্যিক ছবির নায়ক হিসেবে বাপ্পি এবং মিলন আপ টু দ্য মার্ক না। বাপ্পির সমস্যা তার ফিটনেস, আর মিলনের সমস্যা হলো চরিত্র যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তা ভালোভাবে রূপদান দিতে না পারা।তারপর মোটামুটি ভালো লেগেছে ,কিন্তু দর্শকদের কাছেও আরো আলো ছড়িয়েছে।

এই ছবিতে অন্যরকম মাত্রা পেয়েছে পাশা চরিত্রটি, যেটি রূপদান করেছেন আলীরাজ। মূলত “ডনগিরি” নামটি যতটুকু সার্থকতা প্রমাণের চেষ্টা করে, তার সবটুকুই এই চরিত্রটিকে ঘিরে। বাকি যা দেখানো হয়, তা সবই আমাদের টিপিক্যাল ছবিগুলোতে দেখা যায়। এই ডনের চরিত্রটাও খুব সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে। ডন, আন্ডারওয়ার্ল্ড এই শব্দগুলো শুনলেই আমাদের মস্তিষ্কে এমন কিছু বিষয় মনে আসবে যা আমরা সবসময় দেখতে পাইনা।

অমিত হাসান এর চরিত্র এবং সাদেক বাচ্চুকে নিয়ে বলার আর অবকাশ রাখেনা,জাদরেল অভিনেতা তারা তাদের অভিনয়ের আবারো জাত দেখালেন।

এরপর অবস্থান ছবির মূলনায়িকা এমিয়া এমির। শুরুতে তাকে পরোপকার করতে দেখা যায়।তার অভিনয়ের কিছুটা ঘাটতি ছিল ,তবে নির্মাতা চেষ্টা করেছেন সেটাই বোঝা যায়। সবমিলিয়ে যদি যায়, এমিয়া এমি কে বাণিজ্যিক ছবির নায়িকা হিসেবে যথেষ্ট সম্ভাবনাময় মনে হয়নি।তবে তিনি তার ট্যালেন্টকে আরো একটু মেলে ধরতে পারতো।

এরপর আসা যাক ছবির ‘পোস্টার বয়’ বাপ্পীর চরিত্র হ্যাপীর কাছে। ছবিতে চরিত্রের দেখা যায় প্রতিটা মুহুর্তে সেলফি তোলা, এরপর যেখানে গুন্ডাপান্ডা দেখা সেখানে গিয়ে মারামারি করা, এবংনায়িকার সাথে তিনটা গানে পারফর্ম করতে দেখা গেছে। তার অভিনয় মোটামুটি ভালো লেগেছে।

অরূনা বিশ্বাস, হাসান ইমাম, লায়লা হাসান, ফরিদা আখতার পপিদের মতো জনপ্রিয় অভিনেতাদের অভিনয় এক কথায় ছিল অসাধারণ.।এছাড়া ছবিতে কিছু কমেডি সিক্যুয়েন্স ছিল, কিছু কিছু হাসির দৃশ্য অনেকটাই মন মাতানো ছিল এবং আবার কিছু কিছু দৃশ্য বিরক্তির উদ্রেক ছড়ায়।

রেটিং -৮.৮০\১০
কারিগরি–
লোকেশন, ক্যামেরাওয়ার্ক, উপস্থাপন, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, ভিএফএক্স, ফাইট কোরিওগ্রাফি, কোরিওগ্রাফি, খারাপ না ।

ছবিতে নৃত্য পরিচালনা করেছেন মাসুম বাবুল, সাইফ খান কালু ও হাবিব। গতানুগতিক নাচের ধরণ যেমনটা বাংলা ছবিতে হয়, ঠিক তেমনই,তবে এই ছবিতে আলাদা অনেককিছুই চোখে পড়েছে।অ্যাকশন ডিরেকশন দিয়েছেন ডি.এইচ চুন্নু, ক্যামেরায় ছিলেন এস.এম আজহার।সম্পাদনার কাজ করেছেন তৌহিদ হোসেন চৌধুরী, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দিয়েছেন ইমন সাহা।

রেটিং -৯\১০
নাচ -গান —-
সাবিনা ইয়াসমিন, কুমার বিশ্বজিৎ, কনকচাঁপা, ইমরান মাহমুদুল, সাবরিনা পড়শৗ, লেমিস, রুপম, ভারতের জোজো একটি ছবিতে গুণী শিল্পীদের কন্ঠ একত্রে পাওয়া গেছে যা বিগত অনেক ছবিতে দেখা যায়নি।

এর সাথে গীতিকার হিসেবে আছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার, কবির বকুল! প্রযোজক মনির হোসেন ইলিয়াস নিজেও একটি গান লিখেছেন। স্বাভাবিকভাবেই এই ছবিতে এদের গানগুলো কেমন হয় সেটা নিয়ে একরকম আগ্রহ ছিল।তবে একেবারে নিরাশ করেননি তারা এবং হাসান ইমাম নিজেও একটি গানে প্লেব্যাক করেছেন, তার সাথে ছিলেন কোকিলকন্ঠী সাবিনা ইয়াসমিন।এক কথায় ভালো লেগেছে।ছবিতে মোট ৬ টি গান রয়েছে। ভারতের জোজো একটি আইটেম গানে কন্ঠ দিয়েছেন। এছাড়া সেলফি নিয়ে একটি গান রয়েছে।

হল রেফারেন্স—-

বিজিবি হলের রিপ্রেজেনটার ইউনুছ বলেছেন -ঈদের পরে এই ছবিটি দর্শকদের ভালো লেগেছে এবং গল্পটাও ভালো ছিল।এবং প্রথম দিনেই নেট কালকেশন অনন্যাও ছবির চেয়ে ভালো।

এশিয়া হলের রিপ্রেজেনটার লিটন বলেন -ঈদের পরে দুটো ছবি ভালো গেছে ,তার মধ্যে ‘ডনগিরি’ একটি।মুক্তি প্রথম দিনেই দর্শকদের লাইন ছিল।গ্রোস রিপোর্ট না জানা গেলো ,নেট কালকেশন ভালো ছিল।

মুক্তি সিনেমা হলের মালিক অভিনেতা প্রযোজক নাদের খান বলেন- ভালো গল্প ,এমন গল্পের চাহিদা আছে দর্শকদের,তবে আরো একটু ভালো হতে পারতো।

পূরবী সিনেমা হলের রিপ্রেজেনটার মোকছেদ বলেন-খুবই ভালো দর্শক ছিল প্রথম দিন এবং দ্বিতীয় দিনেও মোটামোটি ছিল এবং নেট কালকেশন খারাপ না। সব মিলিয়ে ভালোই

আলমাস সিনেমা হলের রিপ্রেজেনটার মিন্টু বলেন-ঈদের পরে এটি একটি ভালো ছবি।এবং দর্শকও খুশি ছবিটি দেখে,এবং টিকিট টেনেছে অনেক।

চম্পাকলি সিনেমা হলের রিপ্রেজেনটার আবু বকর সিদ্দিক বলেন-দর্শক অনেক ছিল এবং বাপ্পির ভক্ত ছিল অনেক। হলের সেল রিপোর্ট বিগত দিনের চেয়ে ভালো।

নিউ গুলশান হলে সন্ধ্যার শো হাউজ ফুল ছিল এছাড়াও অনেক হলই প্রথম দিন হাউজফুল ছিল দ্বিতীয় দিনও কয়েকটা হল ভালো সেল হয়েছে।

 

এবং আমার কিছু কথা —-

সবমিলিয়ে যদি বলি, “ডনগিরি” ছবিটি অ্যাকশন ,রোমান্স কমেডি গতানুগতিক ধারার বাহিরের গল্প। এর সাথে আন্ডারওয়ার্ল্ডের বিষয়াদি আলাদাভাবে নতুন করে ছবির মোড় হয়েছে।তবে ছবির গল্প বলার ধরনের নতুনত্ব অনেকটা চোখে পড়েনি।

এই শহরে অলিতে গলিতে এই রকম অনেক অনেক ডন রয়েছে এবং তাদের ডন গিরি চোখে পরে বাস্তবিক জীবনে এই রকম উদাহরণ আমরা টিভিতে বা পত্রিকাতে দেখতে পাই | একটি অসাধারণ গল্প এটা এবং পরিবার নিয়ে দেখার মতো একটি ফিকশন ছিল ডনগিরি | এই যুগের ফাতরা টাইপের কিছু সিনেমার চেয়ে হাজার গুনে ভালো অনন্তত , আমি বলবো ঈদের পরের সেরা সিনেমার নাম প্রকাশ করলে এটি অনায়াসে প্রথম সারিতে থাকা উচিত |

ব্যাক্তিগত মতামত –

সব কিছুই নিপুণ ছন্দে বাধা। চোখের বালি-র মতো উপন্যাসের পরিণতি নিয়ে রবীন্দ্রনাথকে আধুনিকদের তরফে বুদ্ধদেব বসু যথেষ্ট সমালোচনা করেন। রবিঠাকুর তা মেনেও নেন। অনেক বড় বড় শিল্পের ক্ষেত্রেই এই অসঙ্গতি চোখে পড়ে। তবে ক্লাইম্যাক্সে এসে সুতো হারিয়ে যায়।এই সিনেমায় ক্লাইম্যাক্সের বাড়বাড়ন্ত অনাধুনিক করে দেয়।

তবু কোথাও এই সিনেমায় মায়া রেখে যায়। সিনেমাটি দেখে বাড়ি ফেরার সময় বারবার মনে হয়, এমন সিনেমা খুব কম হয়। এত টানটান রাজনীতি পুরো সিনেমায় ঘাম জড়িয়েছে অঙ্গে এসির বাতাসেও। গরমের রাত এবং বেলা ফুরিয়ে আসে। মনে হয়, কোথাও রয়ে গেল ডন গিরি।

ছবিটি কেন দেখবেন ??

পরিবার নিয়ে দেখতে পারবেন।ছবিতে ভালো একটি গল্প রয়েছে।ভালো ভালো সব অভিনেতা রয়েছে।গায়ক-গায়িকাদের গান শুনে হারিয়ে যাবেন প্রেমিক প্রেমিকাদের মেঘ ভেলিকের দেশে।সবশেষে একজন বাংলা সিনেমার দর্শক হয়ে থাকলে ,

বাংলা সিনেমায় থাকুন -বাংলা সিনেমা দেখুন –

.
.

.