একের ভিতরে সব ছিলেন টেলি সামাদ

(অরণ্য শোয়েব) -ঢাকাই ছবির এক সময়ের তুখোড় অভিনেতা ছিলেন তিনি | বাংলা ছবির কমেডিয়ান – এতটুকু বললেই সবার আগে যে নামটা আসে তিনি হলেন টেলি সামাদ। যদিও, তার অনেকগুলো পরিচয়। টেলি সামাদ একাধারে অভিনেতা, গায়ক, সুরকার, প্রযোজক ও চিত্রশিল্পী যেন একের ভিতরে সব ।

তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার ছাত্র। সেই সময় থেকে টেলি সামাদ চিত্রশিল্পীর কাজ করলেও পরবর্তীতে তা আর চালিয়ে যেতে পারেননি। কারণ সত্তুরের দশকে তিনি চলচ্চিত্রে দারুণভাবে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।

টেলি সামাদের আসল নাম ‘আবদুস সামাদ’। তাঁর জন্ম ১৯৪৯ সালের ২০ ডিসেম্বর বিক্রমপুরের নয়াগাঁও গ্রামে।

ঢাকার চিত্র জগতে টেলি সামাদ প্রথম অভিনয় করেছিলেন ‘কার বউ’ ছবিতে। এই ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৬৬ সালে

১৯৬৭ সালের দিকে টেলিভিশনে প্রচারিত ‘ত্রিরত্ন’ এবং ‘যদি কিছু মনে না করেন’ অনুষ্ঠানে অভিনয় করে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে। অসম্ভব সুনাম অর্জন করেন।

ওই সময় তাঁর নামের সঙ্গে ‘টেলি’ শব্দটি যুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর আবদুস সামাদ থেকে হয়ে গেলেন ‘টেলি সামাদ ’। বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ক্যামেরা পার্সন মোস্তফা মামুন এই নামটা দিয়েছিলেন।

যদিও, সিনেমাই ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। ৬০০ টির মত ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। টেলি সামাদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলো – পায়ে চলার পথ, বড় বউ, অবাক পৃথিবী, সোহাগ, গুনাহগার, আগুনের আলো, নয়নমণি, গোলাপী এখন ট্রেনে, অশিক্ষিত, ফকির মজনু শাহ, ময়নামতি, পাগলা রাজা, মধুমিতা, মিন্টু আমার নাম, মেহেরবান, হারানো মানিক, নওজোয়ান, সুজন সখী, অবুঝ মন, দিন যায় কথা থাকে, কন্যা বদল, নদের চাঁদ, মাটির ঘর, সঙ্গিনী, নাগর দোলা, চন্দ্রলেখা, কথা দিলাম, শেষ উত্তর, এতিম, দিলদার আলী, বাঁধনহারা, ভালো মানুষ, মান অভিমান, লাভ ইন সিঙ্গাপুর, মনা পাগলা, বিনি সুতার মালা, ভাত দে, সখিনার যুদ্ধ, ডাইনি বুড়ী, কে তুমি ইত্যাদি।

টেলি সামাদ কয়েকটি ছবি প্রযোজনা করেছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছবি হলো – দিলদার আলী এবং মনা পাগলা।

‘দিলদার আলী’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮০ সালে। এই ছবিতে অভিনয় করে টেলি সামাদ দারুণ প্রশংসা পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে এই দিলদার আলী’র – ‘দিলদার’ নাম নিয়ে ঢাকার চিত্র জগতে কৌতুক অভিনেতা দিলদারের যথার্থ উত্থান ঘটেছিল।

রবিউল, খান জয়নুল, আশীষ কুমার লৌহ, আনিস, লালু, হাসমতের মত কিংবদন্তিতুল্য কৌতুক অভিনেতাদের সাথে তাঁর নাম উচ্চারিত হত। ২০১৫ সালে তাঁর অভিনীত সর্বশেষ ছবি ‘জিরো ডিগ্রী’ মুক্তি পায়।

টেলি সামাদের অভিনয়ের ধরণটা ছিল অনেকটা মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মেহমুদ, ভগবান, জনি ওয়াকার, আই এস জহরের মতো।

যদিও এর সবই এখন অতীত৷ পাঁচ দশক ধরে দর্শকদের হাসির খোড়াক মেটানো মানুষটার মুখের হাসি আর নেই। তিনি চলে গেছেন আজ জীবন নদীর ওপারে!