আত্মহত্যার চেষ্টা মীরের

কলকাতা বাংলার জনপ্রিয় উপস্থাপক মীর আফসার আলী । যিনি জনপ্রিয় টিভি শো মীরাক্কেলের মীর নামেই বেশি পরিচিত । মীর উপস্থাপনার পাশাপাশি অভিনয় এবং গান করেন ।

রেডিও মির্চি, ১০ সেপ্টেম্বর, সকাল ৮.৪৫ শুরু হতেই কলকাতাবাসী একটি খবর শুনেই হতবাক ।গোটা কলকাতা শহর, তাঁর লক্ষ-লক্ষ গুণমুগ্ধ শ্রোতা, সবাইকে চমকে দিয়ে গত মঙ্গলবার, ওয়ার্ল্ড সুইসাইড প্রিভেনশন ডে’র সকালে রেডিওতে এই কথাগুলো বলেছেন যা অবিশ্বাস্য ও অভূতপূর্ব। জনপ্রিয়তম রেডিও জকি, হাজার শো-এর ভরসাযোগ্য এমসি, ‘মীরাক্কেল’-এ মানুষকে বলে বলে হাসাতে পারদর্শী, সেই মানুষটি স্বীকারোক্তিটি করেছেন। শুক্রবার সকালে শো-এর মাঝখানে আরও বেশ কিছু চমকে দেওয়া কথা বললেন তিনি ।

গত নবমীর রাতে একসঙ্গে ৮৭ স্লিপিং পিল খেয়েছেন তা অকপটেই স্বীকার করেন মীর। এছাড়া মোট চারবার তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানা যায় ।

মীর কলকাতার একটি গণমাধ্যমকে জানান, ‘গত দুই বছরে আমি চারবার সুইসাইড অ্যাটেম্পট করেছি। চারবারের মধ্যে তিনবার আমাকে আনোয়ার শাহ রোডের হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছিল। চারবারের মধ্যে একবার তো আমি নিজের বাড়িতে সুইসাইড অ্যাটেম্পট করতে গিয়েছিলাম।’

৮৭টি ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে মীর বলেন, ‘বাসায় যখন জানতে পারলো আমার এই অবস্থা। আমাকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাক্তারদের আপ্রাণ চেষ্টায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসি। সেবার আমার মনে হয়েছিল আমি বোধহয় আর ফিরব না। তারপর কাউন্সেলিং হয়েছিল, ওষুধ খাওয়া শুরু হলো। আমাকে বাড়ির লোক আমেরিকা পাঠিয়ে দিয়েছিল ছুটিতে।’

নাম যশ টাকা কোনো কিছুর অভাব নেই। তবুও কেন এমন পথ বেছে নেন মীর? এই তারকা বলেন, ‘সবকিছু রয়েছে আমার। উপরওয়ালা সবকিছু দিয়েছেন। আমি যা যা কিছু স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি সে সব কিছু আমার দখলে রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু একটার পেছনে ছুটতে থাকা, কিছু একটা তাগিদ, কোনো একটা জেদের বশে, করেছি এই কাজ।’

না আর এই পথে পা বাড়াতে চান না মীর। বরং মানুষকে আত্মহত্যা থেকে ফেরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি।

‘এরকম সুইসাইডের চিন্তা যদি মাথায় কারো কখনো আসেন, সঙ্গে সঙ্গে কাছের কোনো মানুষকে বলে ফেলুন। পাশে কেউ না থাকলে তাকে ফোন করে কথাটা বলুন। সেই মানুষটির সঙ্গেই কথা বলবেন যিনি আপনাকে অপমান করবেন না। যারা ডাক্তার বা মনোবিদের সাহায্য নিচ্ছেন, তাদের পায়ে পড়ে বলছি, কিছু লুকাবেন না ডাক্তারের কাছে।

Aronno Shoeb