আজ চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেনের জন্মদিন

(অরণ্য শোয়েব )- আমজাদ হোসেন ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট জামালপুরে জন্মগ্রহন করেন। বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট অভিনেতা, লেখক এবং ব্যতিক্রমধর্মী চলচ্চিত্রকার তিনি। তাঁর পৈতৃক নিবাস জামালপুর।

তিনি ১৯৬১ সালে হারানো দিন চলচ্চিত্রে অভিনয় দিয়ে চলচ্চিত্রে আগমন করেন।পঞ্চাশের দশকে ঢাকায় এসে পরে তিনি চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনায় মনোনিবেশ করেন।

যাত্রার শুরুটা ছিল মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। এরপর তিনি অভিনয় করেন মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে।

আমজাদ হোসেনের লেখা নাটক ‘ধারাপাত’ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন সালাহউদ্দিন। এতে আমজাদ হোসেন নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন। এরপর তিনি জহির রায়হানের ইউনিটে কাজ শুরু করেন।

‘একবার যদি কেউ ভালোবাসতো আমার হৃদয়টা জলে ভাসতো আর ভালোবাসতো’

প্রেম যেনো স্বর্গ থেকে এসে মৃত্যু অবধী থেকে যাবে এই বিরহী মনের ভালোবাসায়। জীবনকে রাঙ্গাবে ভালোবাসার হাজার রঙ্গে। বেদনা যেন ম্লান হয়ে যাবে প্রেমের মিলনের মাঝে। পাষানীর মন যেন গলে যাবে ভালোবাসার উষ্ণ গানের দরদ ভরা আবেগী কথামালায়। জীবন যেন ফিরে পাবে তার কাঙ্খীত ভালোবাসার ছোঁয়ায়। এমন প্রেম সৃষ্টিকারী অসংখ্য গান রচনা করেছেন গীতিকবি আমজাদ হোসেন।

একজন ভার্সেটাইল আমজাদ হোসেন শিল্পের যে শাখায় হাত দিয়েছেন সেখানেই সোনা ফলেছে তার ছোঁয়ার আবেশে। বিমহিত করেছে হাজারো ভক্তের হৃদয়কে। গীতিকার হিসেবে উপহার দিয়েছেন বহু কালজয়ী গান। যেমন, আছেনা আমার মোক্তার, হায়রে কপাল মন্দ চোখ থাকিতে অন্ধ, কেউ কোনদিন আমারে তো কথা দিলো নারে, চুল ধইরোনা খোঁপা খুলে যাবে, একবার যদি কেউ ভালোবাসতো, বাবা বলে গেলো আর কোনদিন গান করোনা সহ অসংখ্য শ্রোতানন্দিত গান। সেই মিডিয়া জগতের মহামূল্যবান মানুষটির আজ শুভ জন্মদিন।

লেখালেখির মাধ্যমেই তাঁর সৃজনশীল জীবন শুরু। ছড়া দিয়ে সাহিত্যের অঙ্গণে তাঁর প্রবেশ। তাঁর প্রথম কবিতা ছাপা হয় বিখ্যাত দেশ (পত্রিকা) পত্রিকায়। ছোটদের জন্যেও তিনি লিখেছেন বহু গল্প, ছড়া এবং উপন্যাস।

তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস ও গল্প লিখেছেন। ১৯৭০ সালের মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর লেখা চলচ্চিত্র জীবন থেকে নেয়া, পরবর্তীতে বাংলাদেশের মানুষের কাছে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। আমজাদ হোসেন নিজেও চলচ্চিত্র পরিচালনা করে খ্যাতি অর্জন করেন।

এভাবেই দীর্ঘদিন কাজ করতে করতে ১৯৬৭ সালে নিজেই চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। নাম ‘জুলেখা’। তার পরিচালিত ব্যাপক দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র হচ্ছে ‘বাল্যবন্ধু’, ‘পিতাপুত্র’, ‘এই নিয়ে পৃথিবী’, ‘বাংলার মুখ’, ‘নয়নমনি’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘ভাত দে’, ‘হীরামতি’, ‘প্রাণের মানুষ’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘কাল সকালে’, ‘গোলাপী এখন ঢাকায়’ ‘গোলাপী এখন বিলেতে’ ইত্যাদি।

১৯৮১ সালে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত পালন করেন আমজাদ হোসেন।

‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ও ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। শিল্পকলায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক (১৯৯৩) ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করেছে।

এছাড়া সাহিত্য রচনার জন্য তিনি ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে দুইবার অগ্রণী শিশু সাহিত্য পুরস্কার ও ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

 

গত ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর আমজাদ হোসেন ব্রেন স্ট্রোক করলে তাকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৭ নভেম্বর দিবাগত রাত ১টার দিকে ব্যাংককে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে নিউরো সার্জন ডা. টিরা ট্যাংভিরিয়াপাইবুনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এরপরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই মারা যান , মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।