আজ কিংবদন্তী নায়ক ফারুকের জন্মদিন

(অরণ্য শোয়েব )- রুপালী পর্দার কিংবদন্তী নায়ক ফারুকের জন্মদিন আজ। ঢাকায় ১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট ফারুক নামে পরিচিত আকবর হোসেন পাঠান দুলু জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম আজগার হোসেন পাঠান।

তাঁর শৈশব-কৈশোর ও যৌবনকাল কেটেছে পুরান ঢাকায়। বর্তমানে বসবাস করছেন উত্তরাতে নিজ বাড়িতে। পাঁচ বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট।  ফারুক নামে অধিক পরিচিত তিনি চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ ।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভক্ত এই চিত্রনায়ক ১৫ আগস্টের সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর আর কখনোই নিজের জন্মদিন পালন করেননি।

ফারুক একদা বলেছিলেন বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খুব আদর করতেন তাকে। এই আগস্টেই এই মহান নেতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। তাই আগস্ট মাসটি শোকের মাস হিসেবেই পালন করেন ফারুক। জন্মদিন নিয়ে আলাদা কোনো অনুভূতি নেই অসংখ্য কালজয়ী চলচ্চিত্রে অভিনয় করা এই নায়কের।

ফারুক স্কুল জীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। ১৯৬৬ সালে তিনি ছয় দফা আন্দোলনে যোগ দেন এবং এ সময়ে তার নামে প্রায় ৩৭টি মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। ফারুক ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেব নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ফারুকের অভিষেক ঘটে। তার বিপরীতে ছিলেন আরেক কিংবদন্তি নায়িকা কবরী। এর পর ১৯৭৩ সালে খান আতাউর রহমানের ‘আবার তোরা মানুষ হ’, ১৯৭৪ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘আলোর মিছিল’-এ অভিনয় করে আলোচনায় আসেন।

১৯৭৫ সালে সুপার ডুপার হিট ‘সুজন সখি’ ও ‘লাঠিয়াল’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এবং সে বছর ‘লাঠিয়াল’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব চরিত্রে অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এরপরে ১৯৭৬ সালে ‘সূর্যগ্রহণ’ ও ‘নয়নমনি’, ১৯৭৮ এ শহীদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস থেকে নির্মিত ‘সারেং বৌ’, আমজাদ হোসেন এর ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ সহ অনেক কালজয়ী চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

তার অভিনীত আরো ছবি হচ্ছে ১৯৭৩ আবার তোরা মানুষ হ, ১৯৭৪ আলোর মিছিল ,১৯৭৫ সুজন সখী,
লাঠিয়াল, দুখু মিয়া নারায়ণ ঘোষ মিতা ববিতা, আনোয়ার হোসেন, রোজী সামাদ বিজয়ী: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার – সেরা পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা | ১৯৭৬-সূর্যগ্রহণ ,মাটির মায়া ,১৯৭৮,গোলাপী এখন ট্রেনে,১৯৭৯ সূর্য সংগ্রাম-দিন যায় কথা থাকে,কথা দিলাম,সাহেব,মাটির পুতুল,ছোট মা,ঘরজামাই,এতিম,তৃষ্ণা,শক্তিশালী,সিকান্দার,শেষ পরিচয়,কালা খুন,যাদু মহল, দুরন্ত দুর্বার,চেনা মুখ,আশা-,জীবন মানে যুদ্ধ,চোখের মনি, যৌতুক, মাসুম, শহর থেকে দূরে, মেহমান ,প্রিয় বান্ধবী, দোস্তী ,জুলিয়া,

জীবন মৃত্যু, প্রতিজ্ঞা ,পুনর্মিলন, অন্ধ বধূ,১৯৮০, সখি তুমি কার ,ছক্কা পাঞ্জা ,১৯৮১-জনতা এক্সপ্রেস ,১৯৮২-লাল কাজল,১৯৮৩-যন্তর মন্তর,আরশিনগর-১৯৮৪-হাসু আমার হাসু ,মায়ের আঁচল,জীবন নিয়ে যুদ্ধ, মান অভিমান- ১৯৮৫-ঝিনুক মালা-১৯৮৭-মিয়া ভাই ,১৯৮৮-ভুল বিচার ,১৯৯০-দাঙ্গা ফ্যাসাদ ,পালকি,লাখে একটা, ভাই ভাই, ১৯৯১-পদ্মা মেঘনা যমুনা-দুখিনী মা, ১৯৯৬-জীবন সংসার, ১৯৯৭-এখনো অনেক রাত, ২০০৬-কোটি টাকার কাবিন,দাদি মা ২০০৮-ঘরের লক্ষী নির্মাতা-আজাদী হাসানাত ফিরোজ সুচরিতা অভিনীত শেষ চলচ্চিত্র পুরস্কার